প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি সংবাদমাধ্যম। ২০২৩ সালের আগস্টে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের মুক্তির বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সরাসরি কোনো পক্ষ প্রকাশ্যে কথা বলছে না। একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে এ সংকটের সমাধান জরুরি।
ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের বাবাকে দীর্ঘ সময় একাকী কক্ষে রাখা হয়েছে। এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগও তিনি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, ইমরানকে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এমনকি বোনের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ইমরানের দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত।
বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন ইমরান খান। ক্রিকেটার হিসেবে ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন তিনি। পরে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের কয়েকজন সাবেক তারকা ক্রিকেটারও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩আগস্ট২৬/টিএ



