
ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু ক্যারিয়ারের গল্পটা পূর্ণতা পায় না। ব্রাজিলের নেইমার জুনিয়র যেন সেই তালিকার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন—নেইমার কি ফুটবলের হতভাগা রাজপুত্র হয়েই থাকবেন?
কৈশোরেই তাকে তুলনা করা হয়েছিল পেলের সঙ্গে। পরে লিওনেল ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-র যুগে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি তাদের সিংহাসনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু চোট, বিতর্ক আর ভুল সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত বারবার তাকে থামিয়ে দিয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে প্রায় তিন বছর পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে নেমেছেন নেইমার। বয়স বেড়েছে, গতি কমেছে, কিন্তু প্রত্যাশা কমেনি। কারণ ব্রাজিলিয়ানদের কাছে নেইমার শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি স্বপ্নের নাম। দেশের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, যা দুই দশকের বেশি সময় ধরে অপূর্ণ।
ক্লাব পর্যায়ে নেইমার জিতেছেন প্রায় সব বড় শিরোপা। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় সবচেয়ে বড় শূন্যতা রয়ে গেছে ব্যালন ডি’অর। অনেকের বিশ্বাস, ২০১৫ কিংবা ২০১৭ সালে ভাগ্য একটু সহায় হলে সোনালি সেই ট্রফিটা তার হাতেই উঠতে পারত। অথচ ইতিহাস তাকে মনে রাখবে এমন একজন হিসেবে, যিনি ব্যালন ডি’অর জেতার সামর্থ্য রেখেও জিততে পারেননি।
তবু গল্পটা শেষ হয়ে যায়নি। বিশ্বকাপ এখনও নেইমারের সামনে শেষ সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদি তিনি ব্রাজিলকে শিরোপা এনে দিতে পারেন, তাহলে অপূর্ণতার অনেক হিসাব মিটে যাবে। আর যদি না পারেন, তাহলে হয়তো ফুটবল ইতিহাসে তিনি চিরকালই থেকে যাবেন—অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী, কিন্তু ভাগ্যের কাছে বারবার হার মানা এক ‘হতভাগা রাজপুত্র’ হিসেবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৫জুন২৬/এজে




















