
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে মার্চের শুরুতে ঢাকায় আসে পাকিস্তান দল। সিরিজ শুরুর আগে অনেকেই মজা করে বলছিলেন, মিরপুরে আড়াইশ রান হবে কি না। কারণ, এই মাঠে বরাবরই ধীরগতির উইকেট দেখা যায়, যেখানে স্পিনাররাই বেশি সুবিধা পায়।
কিন্তু এবার মাঠের চিত্রটা ছিল একেবারে ভিন্ন। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে স্পিন সহায়ক উইকেট না বানিয়ে এমন উইকেট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ব্যাটসম্যান ও বোলার দুজনই সমান সুযোগ পেয়েছেন। এই পরিবর্তন অনেককে অবাক করেছে।
এই সিরিজেই দেখা গেছে পেসারদের দাপট। তিন ম্যাচে পাকিস্তানের ৩০ উইকেটের মধ্যে ১৯টিই নিয়েছেন পেসাররা। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান দ্রুতগতিতে সেঞ্চুরি করেছেন। একই ম্যাচে পাকিস্তানের সালমান আগাও সেঞ্চুরি পান। অর্থাৎ উইকেট এমন ছিল, যেখানে রানও হয়েছে, আবার বোলাররাও সফল হয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন জানিয়েছেন, এটি শুধু এক সিরিজের পরিকল্পনা নয়। সামনে ঘরের মাঠে এই ধরনের উইকেটই রাখা হবে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এগোতে হলে এমন চ্যালেঞ্জ নেওয়া জরুরি। ঘরের মাঠে সব সময় সহজ উইকেটে খেললে বিদেশে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।
এই চিন্তা থেকেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান সিরিজের আগেও বগুড়া ও রাজশাহীতে বিসিএল ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে একই ধরনের উইকেটে খেলা হয়েছে, যাতে ব্যাটসম্যানরা অভ্যস্ত হতে পারেন।
শুধু ম্যাচ নয়, অনুশীলনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মিরপুরের একাডেমি ও ইনডোরের কিছু উইকেটেও নতুন বৈশিষ্ট্য আনা হয়েছে। জাতীয় দলের পাশাপাশি নারী ও বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেটারদেরও এই ধরনের উইকেটে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হবে।
এদিকে গত বছর ওয়ানডেতে টানা চার সিরিজ হারার পর দলের ভেতরে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা ছিল। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে বোর্ড তাঁর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। সামনে ভালো খেলতে পারলে তাঁর ওপরই আস্থা রাখতে চায় বোর্ড।
সব মিলিয়ে মিরপুরের উইকেট বদলের এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৮মার্চ২৬/টিএ






















