Connect with us
ফুটবল

ফুটবলে কেন ১১ জন খেলেন, ম্যাচই বা কেন ৯০ মিনিটের?

ফুটবলে যে কারণে ১১ জন ও ৯০ মিনিট খেলে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই খেলা দেখলেও একটি প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই জানা নেই প্রতি দলে কেন ঠিক ১১ জন খেলোয়াড় থাকেন? আবার একটি ম্যাচই বা কেন ৯০ মিনিটের হয়? মজার বিষয় হলো, এ দুই প্রশ্নের সোজাসাপ্টা কোনো উত্তর আজও নেই। ফুটবল ইতিহাসবিদদের মতে, এই নিয়মগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একদিনের সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে খেলার বিকাশের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে।

ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) প্রথম মহাসচিব এবেনেজার কব মর্লি ১৮৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ফুটবলের প্রথম স্বীকৃত নিয়মকানুন প্রকাশ করেন। তবে সেখানে ম্যাচের সময়সীমা কিংবা একটি দলে কতজন খেলোয়াড় থাকবে, সে বিষয়ে কোনো উল্লেখই ছিল না। এরও আগে ও পরে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে ফুটবল খেলা হতো। কোথাও ১০ জন, কোথাও ১৫ জন, আবার কোথাও ২০ জন পর্যন্ত খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে।

আঠারো শতকের শেষ ভাগ ও উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের শেফিল্ড ছিল ফুটবলের অন্যতম কেন্দ্র। বিশ্বের প্রাচীনতম ফুটবল ক্লাব শেফিল্ড এফসি ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এক বছর পর নিজেদের নিয়মকানুন প্রকাশ করে, যা ‘শেফিল্ড রুলস’ নামে পরিচিত। কিন্তু সেখানেও খেলোয়াড়ের সংখ্যা কিংবা ম্যাচের সময় নির্ধারণ করা হয়নি।



ফুটবল ইতিহাসবিদ অ্যাড্রিয়ান হার্ভি তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ফুটবল: দ্য ফার্স্ট হানড্রেড ইয়ারস–এ উল্লেখ করেছেন, ১৮৫০-এর দশকের শেষ দিকে শেফিল্ডের ম্যাচগুলোতে প্রতি দলে ২০ জন করে খেলোয়াড় থাকত এবং খেলা চলত প্রায় দুই ঘণ্টা। এমনকি ১৮৬২ সালেও কোথাও এক ঘণ্টা, কোথাও আবার তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে। অর্থাৎ সে সময় ফুটবলে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না।

ইতিহাসে প্রথম ৯০ মিনিটের ফুটবল ম্যাচের তথ্য পাওয়া যায় ১৮৬৬ সালের ৩১ মার্চ। লন্ডনের ব্যাটারসি পার্কে শেফিল্ড এফসির বিপক্ষে লন্ডনের কয়েকটি ক্লাবের সম্মিলিত দল সেই ম্যাচে অংশ নেয়। ইতিহাসবিদদের ধারণা, শেফিল্ড থেকে ট্রেনে লন্ডন যাওয়া-আসার সময় বিবেচনা করেই ম্যাচের সময় ৯০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে এই সময়সীমা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ১৮৭১ সালে এফএ কাপের প্রথম নিয়মেই প্রতিটি ম্যাচের সময় দেড় ঘণ্টা বা ৯০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়।

তবে ৯০ মিনিটের আরেকটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ইংরেজ ইতিহাসবিদ ও গবেষক পিটার সেডন। তাঁর মতে, মধ্যযুগ থেকেই ৬০ সংখ্যাকে সময় গণনার ভিত্তি হিসেবে ধরা হতো। সেই ধারাবাহিকতায় ১৫ মিনিটের ভাগ বা তার গুণিতককে একটি পরিপূর্ণ সময় একক হিসেবে দেখা হতো। ১৫ মিনিটের ছয়টি অংশ মিলেই হয় ৯০ মিনিট। এ কারণেই হয়তো ফুটবলের সময়সীমা ৯০ মিনিটে স্থির হয়েছে। যদিও এটি নিশ্চিত ইতিহাস নয়, বরং গবেষকদের একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা।

আর ১১ জনের দল নিয়েও বিভিন্ন গল্প প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই দাবি করেন, ইংল্যান্ডের বোর্ডিং স্কুলের ডরমেটরিতে ১১ জন শিক্ষার্থী থাকতেন, সেখান থেকেই এই নিয়ম এসেছে। তবে ইতিহাসবিদরা বলছেন, এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। বরং দীর্ঘদিন বিভিন্ন সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে খেলার পর মাঠের আকার, খেলার গতি এবং আক্রমণ-রক্ষণের ভারসাম্য বিবেচনায় ১১ জনের দলই সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সেটিই স্থায়ী নিয়মে পরিণত হয়।

অর্থাৎ ফুটবলের ১১ জন খেলোয়াড় ও ৯০ মিনিটের ম্যাচ দুটিই কোনো একদিনে তৈরি হয়নি। বহু বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নিয়মের ধারাবাহিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই আজকের পরিচিত ফুটবল তার বর্তমান রূপ পেয়েছে।

ক্রিফোস্পোর্টস/৭জুলাই২৬/টিএ

Crifosports announcement

Focus

More in ফুটবল