বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা এখন নাহিদ রানা। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই নিজের গতির জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন এই ডানহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁর কাছ থেকে বড় কিছুই আশা করছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির পেসার মিচেল স্টার্কের বিপক্ষে নাহিদের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু চোটের কারণে সেই সম্ভাবনা আর বাস্তব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, পাঁজরের বাঁ পাশের চোটে পড়েছেন নাহিদ রানা। এই চোটের কারণে তাঁকে ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ফলে আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলতে পারবেন না তিনি। এতে শুধু বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণই দুর্বল হলো না, বিশ্বের দ্রুততম দুই পেসারের সম্ভাব্য লড়াইটিও দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন সমর্থকেরা।
ক্রিকেটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিকভিজের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের মার্চে টেস্ট অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ১১টি টেস্টে নাহিদ গড়ে ঘণ্টায় ১৪১ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক, যার গড় গতি ঘণ্টায় ১৪১ দশমিক ৪ কিলোমিটার। অর্থাৎ ধারাবাহিক গতির বিচারে স্টার্ককেও ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার।
তবে একক দ্রুততম বলের তালিকায় এগিয়ে আছেন স্টার্ক। নাহিদের অভিষেকের পর টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুতগতির বলটি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার, যার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫৭ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার। দ্বিতীয় দ্রুততম বলটি নাহিদের, যার গতি ঘণ্টায় ১৫১ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার।
শুধু নাহিদ নন, গত দুই বছরে গতি নির্ভর বোলিংয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণও নজর কেড়েছে। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশের পেসাররা মোট ৫ হাজার ৮৮৭টি বল করেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ২৮২টি বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি। শতকরা হিসেবে যা ২১ দশমিক ৭৮। এই তালিকায় বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে শুধু অস্ট্রেলিয়া, যাদের হার ২২ দশমিক ৭।
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে আরেকটি দুশ্চিন্তার নাম শরীফুল ইসলাম। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভোগা এই বাঁহাতি পেসারকে প্রথম টেস্টে পাওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। চিকিৎসকদের অনুমতি মিললে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য তাঁকে বিবেচনা করা হতে পারে। ফলে বাংলাদেশের দুই প্রধান পেসারকে ছাড়াই শুরু হতে পারে সিরিজ।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ। প্রায় দুই যুগ পর এই সফরে গতির লড়াই দেখার যে প্রত্যাশা ছিল, নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের চোটে তা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৬জুলাই২৬/টিএ



