আইপিএলের নতুন মৌসুম শুরুর আগেই অস্বস্তিকর বাস্তবতায় পড়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। রেকর্ড দামে দলে নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সরাসরি নির্দেশনার পর শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবেই মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেয় কলকাতা।
নিলামে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াই করে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে কিনেছিল শাহরুখ খানের দল। কিন্তু আইপিএলের একটি বলও না করেই দল ছাড়তে হলো বাঁহাতি এই পেসারকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বিশাল এই টাকার কী হবে?
আইপিএলের নিলাম নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় কিনে নেওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজির পার্স সাধারণত লক হয়ে যায়। ইনজুরি, ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ানো কিংবা খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে সেই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে মুস্তাফিজের বিষয়টি আলাদা।
এ ক্ষেত্রে খেলোয়াড় নিজে সরে দাঁড়াননি, কোনো ইনজুরিতেও পড়েননি। ক্রিকেটের বাইরের কারণ দেখিয়ে বিসিসিআই সরাসরি হস্তক্ষেপ করে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আইপিএলের অপারেশনাল গাইডলাইন অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টিকে সাধারণত ‘ফোর্স মাজর’ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো ঘটনার কারণে চুক্তি কার্যকর রাখা সম্ভব না হলে ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর আর্থিক দায় চাপানো হয় না।
এই বিধান অনুযায়ী, কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের খরচ করা পুরো ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি ফেরত পাওয়ার যৌক্তিক দাবি করতে পারে। বোর্ডের হস্তক্ষেপে কোনো খেলোয়াড় বাদ পড়লে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না করার নীতিই অনুসরণ করা হয়।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে। এই অর্থ ফেরত পেলে কলকাতা রেজিস্টার্ড অ্যাভেইলেবল প্লেয়ার পুল কিংবা রিপ্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় পুরো বাজেট ব্যবহার করে নতুন বিদেশি খোঁজার সুযোগ পাবে। অর্থ না ফিরলে, নিজেদের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতো ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে।
এ বিষয়ে বিসিসিআই এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। তবে বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া নিশ্চিত করেছেন, কলকাতাকে বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। অর্থ ফেরতের সময়সীমা বা প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও বোর্ড যে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে, সেটির ইঙ্গিত মিলেছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩জানুয়ারি২৬/টিএ
