Connect with us
ফুটবল

বিশ্বকাপে কোন রণকৌশলে ব্রাজিলকে সফল করছেন আনচেলত্তি?

Ancelotti
ব্রাজিলের ডাগআউট চাঙ্গা করে রেখেছেন কার্লো আনচেলত্তি।

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে সফল দল, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এক সময় ফুটবলের প্রতিটি বড় আসরে শিরোপার দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামত সেলেসাওরা। কিন্তু গত দুই দশকে বিশ্বকাপের শিরোপা-খরা, সঙ্গে মহাদেশীয় ফুটবলেও ধারাবাহিক ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে হারিয়ে গেছে সেই পুরোনো দাপট। ‘ফুটবলের ওয়ান্ডারল্যান্ড’ এখন নিজেদের হারানো গৌরব ফেরানোর মিশনে।

সেই লক্ষ্যেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন বিদেশি কোচকে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে নতুন স্বপ্ন দেখছে সেলেসাওরা। আর তার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে দলের খেলার ধরনে।

আনচেলত্তির ব্রাজিল এখন আর নিজেদের অর্ধে নেমে অপেক্ষা করে না। প্রতিপক্ষের মাঠেই তীব্র চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত বল ছিনিয়ে নেওয়া—হাই প্রেসিংই এখন তাদের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।



পরিসংখ্যানও সেটিই বলছে। আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের করা ৩৩ গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশে বল পুনরুদ্ধারের পর। অর্থাৎ প্রতি চারটি গোলের একটি এসেছে হাই প্রেসিং থেকে।

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচেও এই পরিকল্পনা স্পষ্ট ছিল। ব্রাজিলের প্রথম দুটি গোলই এসেছে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর। একইভাবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আরেকটি গোল করেছিলেন, যদিও পরে ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়।

এই কৌশল অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের জুনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও ব্রাজিলের প্রথম গোল এসেছিল একইভাবে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কাছে বল কেড়ে নিয়ে।

অনুশীলনেও এই পরিকল্পনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন আনচেলত্তি। নিয়মিত এমন ড্রিল করানো হয়, যেখানে একদল খেলোয়াড় বল ধরে রাখার চেষ্টা করেন, আর অন্য দল দ্রুত তা ছিনিয়ে নিয়ে কয়েকটি পাসের মধ্যেই গোলের চেষ্টা করে। ম্যাচ-পূর্ব ভিডিও বিশ্লেষণ ও ট্যাকটিক্যাল ব্রিফিংয়েও বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর আনচেলত্তি বলেন, ‘এই দলের ইচ্ছাশক্তির কখনো অভাব ছিল না। সমস্যা ছিল খেলার মানে। আমরা যে গোলগুলো করেছি, তার বড় একটি অংশ এসেছে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার পর। বল পুনরুদ্ধার করতে পারা আসলে দলের সংগঠিত চাপ ও মানসিকতারই প্রতিফলন।’

বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে ব্রাজিল প্রতিপক্ষকে ১০৮ বার বল হারাতে বাধ্য করেছে, যা তাদের আগ্রাসী প্রেসিংয়ের কার্যকারিতারই প্রমাণ।

এই কৌশলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বল প্রতিপক্ষের গোলের কাছেই ফিরে পাওয়ায় আক্রমণ গড়তে কম সময় লাগে এবং রক্ষণভাগকেও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় না। ফলে শক্তি সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের অগোছালো রক্ষণকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত গোলের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়।

নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষ আরও কঠিন হবে। তবে আনচেলত্তির এই হাই প্রেসিং কৌশলই ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

ক্রিফোস্পোর্টস/২৬জুন২৬/এজে

Crifosports announcement

Focus

More in ফুটবল