বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় লিওনেল মেসির দল। শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশায় ভেঙে পড়েন মেসি। চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সতীর্থদের অনেকেও ছিলেন একই অবস্থায়। তবে পরাজয়ের পরও মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বের কথা বলেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
৩৯ বছর বয়সেও পুরো বিশ্বকাপে অসাধারণ ফুটবল খেলেছেন মেসি। আটটি গোল করার পাশাপাশি চারটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে করেছেন হ্যাটট্রিক। টানা আটটি ম্যাচে গোল করার নজির গড়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলে সহায়তার নতুন রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, মেসি যা করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তার মতে, এই বয়সে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে যে মানের ফুটবল মেসি খেলেছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, মেসি শুধু আর্জেন্টিনার নয়, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার অর্জন নিয়ে পুরো দেশের গর্ব করা উচিত।
শিরোপা হারানোর কষ্ট লুকাতে পারেননি স্কালোনিও। তিনি জানান, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে তিনি কেঁদেছেন। তবে তখন মেসির সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। কারণ পুরো দলই ছিল গভীর হতাশায়। এত কাছে গিয়েও বিশ্বকাপ ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপ সবাইকে ভেঙে দিয়েছে।
ফাইনালে অবশ্য মেসিকে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দেয়নি স্পেন। শুরু থেকেই তাকে ঘিরে রেখেছিল স্পেনের রক্ষণভাগ। ফলে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি তিনি। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনাও আক্রমণে খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা জিতে নেয় স্পেন।
এই জয়ের মাধ্যমে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তোলে স্পেন। অন্যদিকে শিরোপা হারালেও মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। স্কালোনির বিশ্বাস, ফল যাই হোক, ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি যা দেখিয়েছেন, তা দীর্ঘদিন ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২০জুলাই২৬/টিএ



