Connect with us
ফুটবল

বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে যা জানাল ফিফা

২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগের মধ্যে তদন্তের ফল প্রকাশ করেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো আসরে অনুষ্ঠিত কোনো ম্যাচেই বেটিং কার্যক্রম বা ম্যাচ কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচ আয়োজন করা হয়। টুর্নামেন্টের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে স্পেন।

বিশ্বকাপ চলাকালে একাধিক ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হারের পর মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট রেফারিদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানায়।



মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেছিলেন, ফিফা নাকি লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখতে চেয়েছিল। তবে পরে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগসংবলিত একটি পোস্টে লাইক দেওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর কিছুদিন পরই তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করল ফিফা।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিফা ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ম্যাচগুলোর বেটিং বাজার এবং মাঠের ঘটনাপ্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এই টাস্কফোর্সে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ছিল-

* এফবিআই (FBI)
* ইন্টারপোল (INTERPOL)
* জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC)
* কাউন্সিল অব ইউরোপ
* ইন্টারন্যাশনাল বেটিং ইন্টেগ্রিটি অ্যাসোসিয়েশন (IBIA)
* বিভিন্ন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা

ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়,‘প্রতিযোগিতা চলাকালে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ম্যাচে সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম বা ম্যাচ কারসাজির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।’

ফিফার সিনিয়র ইন্টেগ্রিটি ম্যানেজার লিয়াম রিচ বলেন, এই যৌথ উদ্যোগ সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কার্যকর একটি কাঠামো তৈরি করেছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতের টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

তবে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে কোনো প্রমাণ না মিললেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ঘিরে ফিফার দুটি পৃথক তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

প্রথম তদন্তটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর খেলোয়াড়দের প্রদর্শিত ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস/ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানারকে ঘিরে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় তদন্তটি স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, লিয়ান্দ্রো প্যারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন।

ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এ ঘটনায় একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। তদন্তে শৃঙ্খলাবিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা, নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ক্রিফোস্পোর্টস/২৩জুলাই২৬/এনডি

Crifosports announcement

Focus

More in ফুটবল