ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনায় কি ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র? বিশেষ করে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়াকে যেভাবে ফিফা ও উয়েফার সব প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, সেই উদাহরণ সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে একই দাবি তুলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও।
৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় অভিযানের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই অভিযানের পেছনে ভেনেজুয়েলার তেলের খনির ওপর আগ্রহ প্রকাশ করায় সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। এর পরই প্রশ্ন ওঠে, এমন সামরিক হস্তক্ষেপের পরও কেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ফিফা। এমনকি ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দেওয়ার দাবিও দেখা গেছে অনলাইনে।
তবে বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যেমন একটি বড় বিষয়, তেমনি আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো ফিফার নিজস্ব আইনকানুন। স্প্যানিশ দৈনিক দিয়ারিও এএস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনা এখানে আইনগতভাবেই টিকবে না।
ফিফার সংবিধান অনুযায়ী, সংস্থাটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে কেবল সদস্য ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। এক দেশ অন্য দেশে সামরিক অভিযান চালালে বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে, তার জন্য সরাসরি কোনো জাতীয় দল বা আয়োজক দেশকে নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান ফিফার নিয়মে নেই। মানবাধিকার সংক্রান্ত ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ থাকলেও, সেটিও সাধারণ নীতিগত অঙ্গীকারের বাইরে গিয়ে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার সুযোগ দেয় না।
রাশিয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ইউক্রেনে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি, ভ্রমণ জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখিয়ে ফিফা ও উয়েফা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি ফোর্স মাজার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, যা নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয়। সেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাশিয়া কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে গেলেও রায় তাদের বিপক্ষেই আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই। দেশটি বর্তমানে কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, নেই নিরাপত্তাজনিত বড় ঝুঁকিও। বরং, ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম চূড়ান্ত হয়েছে ২০১৮ সালেই। আট বছরে বিপুল অর্থ ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যায়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে আয়োজক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ক্রিফোস্পোর্টস/৮জানুয়ারি২৬/টিএ
