বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন। সেখানে বলা হয়েছে, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এমন আলোচনা শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিশ্বাস ইনফান্তিনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পরিচিত এবং ভিন্ন মতের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করাতে তিনি সক্ষম। এ কারণেই তাকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে চান তিনি। তবে এ বিষয়ে ইনফান্তিনো এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
ইনফান্তিনো বর্তমানে তৃতীয় মেয়াদে ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তাকে যদি জাতিসংঘের মহাসচিব হতে হয়, তাহলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ এবং পরে সাধারণ পরিষদের অনুমোদন লাগবে। ফলে শুধু কোনো রাষ্ট্রনেতার সমর্থন থাকলেই এই পদে যাওয়া সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের বৈশ্বিক অংশীদারিত্ববিষয়ক বিশেষ দূত পাওলো জামপোলিও ইনফান্তিনোর প্রশংসা করেছেন। তার মতে, বিশ্বের দুই শতাধিক সদস্য দেশের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় আন্তর্জাতিক একটি বড় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা ইনফান্তিনোর রয়েছে। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার অভিজ্ঞতা এই পদে কাজে লাগতে পারে।
তবে পথটি মোটেও সহজ নয়। জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আরও কয়েকজন পরিচিত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ফিফার সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালে ইনফান্তিনোকে নানা বিতর্কেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশ্বকাপের আয়োজন, সূচি এবং কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বিভিন্ন সময়।
বিশ্বকাপ চলাকালে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোকে একাধিকবার একসঙ্গে দেখা গেছে। উদ্বোধনের আগে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মাননা দেন ইনফান্তিনো। আবার ফাইনালের পুরস্কার বিতরণীতেও দুজন একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরই ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পদে দেখতে চান ট্রাম্প—এমন খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
সূত্র: দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট
ক্রিফোস্পোর্টস/২৩জুলাই২৬/টিএ



