
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম আবারও একটি বড় ক্রিকেট ম্যাচের অপেক্ষায়। প্রায় তিন বছর আগে এই মাঠেই ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে গভীর হতাশায় পড়েছিল ভারত। সেই ম্যাচে শিরোপা জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই স্মৃতি এখনো অনেক ভারতীয় সমর্থকের মনে রয়েছে। তবে একই মাঠে আজ নতুন করে সাফল্যের সুযোগ পেয়েছে ভারত।
আজকের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচ জিততে পারলে ভারত নতুন একটি ইতিহাস গড়তে পারে। কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে তিনবার শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। একই সঙ্গে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করতে পারে তারা। আয়োজক দেশ হিসেবে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে ভারতের।
এই মাঠেই চলতি আসরের সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছিল ভারত। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এবার দলটি আরও সতর্ক রয়েছে। এমনকি ফাইনালের আগে নিজেদের দলীয় হোটেলও পরিবর্তন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ হবে মাঠের খেলায়। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত লড়াই এই ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ফিন অ্যালেন এই আসরে দারুণ খেলছেন। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৩৩ বলে শতক করেন তিনি। শুরুতেই দ্রুত রান তোলার জন্য তিনি পরিচিত। তাকে থামানোর দায়িত্ব থাকবে ভারতের পেসার যশপ্রীত বুমরার ওপর।
ভারতের ব্যাটসম্যান সঞ্জু স্যামসনও সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ভালো খেলছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৭ এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ রান করেন তিনি। তবে নিউজিল্যান্ডের পেসার ম্যাট হেনরি তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন। কারণ বিশ্বকাপের আগে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে হেনরি দুবার স্যামসনকে আউট করেছিলেন।
মাঝের ওভারগুলোতে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে লড়াই হতে পারে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের। পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই ক্রিকেটার মুখোমুখি হলে কয়েকবার সূর্যকুমারকে আউট করেছেন স্যান্টনার।
এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান টিম সাইফার্ট এই প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে রান করছেন। সাত ইনিংসে তিনটি অর্ধশতকসহ তিনি করেছেন ২৭৪ রান। তাকে থামানোর দায়িত্ব থাকবে ভারতের অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার ওপর।
সব মিলিয়ে আহমেদাবাদের এই ফাইনাল ম্যাচটি হতে পারে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একদিকে ভারতের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, অন্যদিকে বড় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডের। তাই দুই দলের জন্যই ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিফোস্পোর্টস/৮মার্চ২৬/টিএ





















