পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে ৭৫ রান সংগ্রহ করে ঝড়ো সূচনা করেছিল আয়ারল্যান্ড। খরচ হয়েছিল মাত্র এক উইকেট। সেখান থেকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পরবর্তী ১৪ ওভারে মাত্র ৯৫ রান তুলতে সক্ষম হয় আইরিশরা। সফরকারীতে দেওয়া ১৭১ রানের লক্ষ্য দুই বল হাতে রেখে স্পর্শ করে বাংলাদেশ।
এদিন টাইগারদের মধ্যে সফল বোলার হিসেবে ৩ উইকেট শিকার করেন শেখ মাহেদী হাসান। মিডল ওভারে নিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান খরচ করেন তিনি। ফলে নিজেদের দুর্দান্ত শুরুর পরেও প্রত্যাশার তুলনায় বড় সংগ্রহ করতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। তবে একা কোন কৃতিত্ব না নিয়ে সবাইকেই ভাগ দিলেন মাহেদী।
মাঝের ওভারগুলোতে টাইগার বোলাররা দারুন ভাবে চেপে ধরেছিল আয়ারল্যান্ডকে। ফলে একটা সময় আইরিশদের স্কোর দুইশর কাছাকাছি যাবে বলে মনে হলেও শেষ পর্যন্ত আর হয়নি তেমনটা। সংবাদ সম্মেলনে এই নিয়ে মেহেদী বলেন, ‘মিডল ওভারে ভালো বল করাতে ওদের দেখা যাচ্ছে আরো ২০-৩০ রান কম হইছে। মিডল ওভার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
তবে কোন কৃতিত্ব একা নিতে চান না তিনি, ‘মূলত যদি আপনি বলেন, যে পাওয়ারপ্লের সুযোগ ওরা যেভাবে কাজে লাগিয়েছে, আসলে যেকোনো দলের জন্য এটা শুধু ভালো শুরু বলবো না, দুর্দান্ত বলা যায় এটাকে। কারণ ছয় ওভারে প্রায় ৮০ রান মতো ছিল। তো সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করা হইছে এবং সব কৃতিত্ব আমার একার না, বোলাররা সবাই ভালো বল করছে।’
বাকি বোলারদের সম্মান জানিয়ে মেহেদী বলেন, ‘সবাই সবার নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে আসে। পাওয়ারপ্লে এমন একটা জায়গা, তো এই জায়গায় ভালো বল করা কঠিন এবং এইরকম কন্ডিশনে আর কি। বোলাররা যে প্রত্যাবর্তন করেছে তা অসাধারণ, ব্যতিক্রমী। এরকম একটা সূচনার পরে বোলাররা যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে তাদেরকে সম্মান জানাই।’
নিজের বোলিং নিয়ে মেহেদী বলেন, ‘পাওয়ার প্লেতে দুইজন ডানহাতি ব্যাটার আমার জন্য তো একটু চ্যালেঞ্জিং। যেহেতু ওরা রুম করে খেলতেছিল বা আমার মাইন্ড নিয়েই খেলতেছিল তারা। কিন্তু যখন পাঁচটা ফিল্ডার বাইরে থাকে তখন তো একটু ভালো পরিকল্পনা করা যায়। আমি ওই পরিকল্পনায় করার চেষ্টা করছি যে আমার শক্তি যা ছিল আমি ওটার উপরেই গেছি। দিনশেষে ভালো জায়গায় বল করছি।’
টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের শঙ্কায় জাগলেও দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে টাইগাররা। ফলে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি এখন পরিণত হয়েছে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে। আগামী ২ ডিসেম্বর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ খেলা। এর আগে কখনো আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারেনি বাংলাদেশ।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩০নভেম্বর২৫/এফএএস