মনে আছে কাতার বিশ্বকাপের আগে মার্টিনেজ-ডিপলরা কি বলেছিলেন। তারা মেসির জন্য যুদ্ধেও যেতে পারবেন। তারা শুধু মেসির জন্যই খেলেন। তারা মেসির জন্যই বিশ্বকাপ জিততে চান। এবার সেই একই পথ ধরেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সতীর্থরা!
রোনালদোর সাথে তার সতির্থদের সম্পর্কের শিতলতার কথা সবারই জানা। এরপরেও এমন কথা শুনতে কিছুটা অবাস্তব লাগে। অবাস্তব হলেও চলতি বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ ৩২ এর ম্যাচে মাঠে নামার আগে ভিতিনহার দেওয়া এ সাক্ষাতকারে এমনটাই জানা গেছে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রাউন্ড অফ-৩২ এর ম্যাচ খেলতে টরন্টোতে পৌঁছে এক সাক্ষাতকারে দলের অন্যতম তারকা ভিতিনহা বলেন, ‘জয়ের জন্য আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে।’
এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘আমরা শুধু বিশ্বকাপ বলেই জিততে চাই না। ব্যক্তি ও দল-দুই দিক থেকেই আমরা জিততে চাই এবং পরের রাউন্ডে উঠতে চাই। পুরো দেশের জন্য, আমাদের বাবা-মা, পরিবার, বন্ধুদের জন্য, জোতার জন্য এবং অবশ্যই ক্রিশ্চিয়ানোর জন্যও।’
যদিও ভিতিনহা বলেছেন তারা ক্রিশ্চিয়ানোর জন্যও বিশ্বকাপ জিতিতে চান। তবে বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। ক্রিশ্চিয়ানো বাজে পার্ফমেন্সের জন্য বরাবই সতীর্থদের বরাবরই দায়ী করা হয়। বলা হয়, সতীর্থরা তাকে পাস দেয় না। তাই তিনি গোলও করতে পারেন না।
কিছুদিন আগে বিষয়টি নিয়ে ফ্রান্সেসকো কনসেইসায়ের একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে বেশ আলোচনায় এসেছিলো। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই মিডফিল্ডার বলেছিলেন, ‘তাকে (রোনালদো) আলাদাভাবে বল পাস দেয়ার কোনো দরকার আমরা মনে করি না। যে খেলোয়াড় ওই মুহূর্তে সবচেয়ে সেরা পজিশনে এবং অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে, আমি তাকেই বল পাস দেব’।
ব্যক্তি রোনালদো নয়, বরং পর্তুগাল দলকে নিয়েই এই মুহূর্তে বেশি চিন্তিত কনসেইসাওরা, ‘বাকিদের মতো রোনালদোও স্রেফ স্কোয়াডের একজন সদস্য। সফল হতে হলে দলের সবাইকে এক হয়ে খেলতে হবে’।
তার এই বক্তব্যেই বোঝা যায় দলের মধ্যে রোনলদোর অবস্থান কেমন!
অথচ বিপরীত দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন ভিন্ন এক চিত্র। মেসির জন্য নিজেদের সব বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত তার সতীর্থরা। যার প্রমাণ এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর দিকে তাকালেই পাওয়া যায়। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে যে পাঁচটি গোল করেছে আর্জেন্টিনা তার সবগুলোয় এসেছে মেসির পা থেকে। ডি পলেরা সবসময় মাঠে যেনো মেসিকেই খোঁজে। তারা যেন মেসিকে দিয়েই গোল করিয়ে বেশি আনন্দ পান। এটাই পার্থক্য গড়ে দেই দুই তারকার মাঝে।
দীর্ঘ সময় ধরে পার্ফম করতে না পারলেও রোনালদোকে দেখে বোঝার উপায় নেই। বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে তাকে বেশ হাসিখুশি মেজাজেই দেখা গেছে। যেন তিনি ভাবতেই চান না, আসন্ন ম্যাচটিই হতে পারে তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। তিনি হয়তো ঘানার সেই ভাইরাল তান্ত্রিকের ভবিষ্যতবাণীকেই সত্যি ধরে নিয়েছেন। যে বলছে এবার রোনালদোর হাতেই বিশ্বকাপ উঠবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩জুলাই২৬/এনডি



