Connect with us
ক্রিকেট

তৃতীয় পেসার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন তাসকিন

মিরপুরে তাসকিনের অনন্য রেকর্ড। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে টেস্ট ক্রিকেটের তৃতীয় দিনে সকালটা শুরু হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু দিনের প্রথম দিকেই গুরুত্বপূর্ণ একটি সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে আজান আওয়াইসের ব্যাটের কোণায় লেগে বল চলে যায় স্লিপে থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে।
শান্তর তালুবন্দি হয়ে ফিরে যান এই সেঞ্চুরিয়ান। 

এই আউটের মধ্য দিয়েই তাসকিন আহমেদ পূর্ণ করেন টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৫০তম উইকেট। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা ও চোট সমস্যার কারণে তার ক্যারিয়ার নিয়মিত না হলেও, এই অর্জন তার ধারাবাহিক পরিশ্রমের একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে এসেছে।

আজানের ইনিংসটি থামে ১০৩ রানে। তার বিদায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে দেয়, যা ম্যাচে চাপ তৈরি করছিল।



টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে খুব বেশি পেস বোলার এই ৫০ উইকেটের সীমায় পৌঁছাতে পারেননি। তাসকিনের আগে এই অর্জন ছিল কেবল দুইজনের। দেশের প্রথম পেস বোলার হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফতুল্লায় তিনি এই অর্জনে পৌঁছান।

এরপর ২০০৯ সালের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘ সময় পর আবারও কোনো পেস বোলার এই তালিকায় যুক্ত হলেন তাসকিন আহমেদ।

এই অর্জনে পৌঁছাতে তাসকিন সময়ের দিক থেকে সবচেয়ে দ্রুত ছিলেন। মাত্র ১৮টি ম্যাচে তিনি ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন। তুলনায় মাশরাফির লেগেছিল ১৯টি ম্যাচ এবং শাহাদাতের ২১টি ম্যাচ।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া পেস বোলার মাশরাফি বিন মুর্তজা, যার উইকেট সংখ্যা ৭৮। তার পরেই আছেন শাহাদাত হোসেন, ৭২ উইকেট নিয়ে। এবার তাদের পাশে শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের টেস্ট অভিষেক হয় ২০১৭ সালে। শুরু থেকেই তিনি চোট সমস্যায় ভুগেছেন, যার কারণে নিয়মিত খেলতে পারেননি। ১৬তম ম্যাচে এসে তিনি প্রথমবার এক ইনিংসে পাঁচজন ব্যাটসম্যানকে আউট করার স্বাদ পান।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগায় তিনি দুর্দান্ত বোলিং করেন এবং এক ইনিংসে ছয়টি আউট করেন। ওই সিরিজে মোট ১১টি উইকেট নিয়ে তিনি সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন।

এরপর শারীরিক সমস্যা ও কাজের চাপ সামলাতে তাকে দীর্ঘ বিরতিতে যেতে হয়। প্রায় দেড় বছর পর আবার মাঠে ফিরে তিনি দেখালেন নিজের কার্যকারিতা।

ফিরে এসেই শুধু আজান আওয়াইসকে আউট করাই নয়, কিছুক্ষণ পর পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদকেও আউট করে ম্যাচে দলের অবস্থান আরও শক্ত করেন এই গতির বোলার।

ক্রিফোস্পোর্টস/১০মে২৬/টিএ

Crifosports announcement

Focus

More in ক্রিকেট