আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তামিম ইকবালের একটি ভিডিও বার্তা। ‘সবার ঢাকা-১৭’ নামে একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক কথা বলেছেন আরাফাত রহমান কোকোর ক্রিকেট–অবদান নিয়ে।
তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণার পর প্রচারণার অংশ হিসেবেই ভিডিওটি সামনে আসে। সেখানে তামিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটিং সার্কেলে কোকোর অবদান নিয়ে আলোচনা হলেও প্রকাশ্যে তা বলা হয়নি।
তামিমের মতে, কোকো এবং তার পরিবার যে স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল, সেটি কখনও দেওয়া হয়নি। নিষেধাজ্ঞা ছিল না, কিন্তু কোনো এক কারণে আমরা বলতে পারিনি, ভিডিওতে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এরপরই তিনি মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রসঙ্গ তোলেন।
তামিমের দাবি, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা মিরপুর স্টেডিয়াম প্রকল্পের সঙ্গে কোকোর সম্পৃক্ততা ছিল। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট গঠনের পেছনেও তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন সাবেক এই ওপেনার।
তিনি বলেন, প্রথম এইচপি ইউনিটের অংশ ছিলেন তিনি নিজে, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। সেই সময় বিকেএসপিতে ক্যাম্পের তদারকি ও সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোকোর ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন তামিম। তার মতে, ক্রিকেটে উনার অবদানের তুলনা হয় না।
ভিডিওতে ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন তামিম। ২০০৬ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের সময় একটি ক্লাব দলে চুক্তি বাতিল হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানান। পরে ওল্ড ডিওএইচএস দলে খেলার সুযোগ পেতে কোকোর সহায়তা পান বলে দাবি করেন। ওই মৌসুমে ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদেই জাতীয় দলে জায়গা পোক্ত হয় এমন কথাও বলেন তিনি।
তামিম আরও বলেন, কোকোর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ সীমিত ছিল। তবে যতবার দেখা হয়েছে, ক্রিকেট ও ক্রীড়াবিদদের প্রতি তার আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধাবোধ চোখে পড়েছে। উনি প্রেসিডেন্টের ছেলে বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে না, একজন সংগঠক হিসেবে বিসিবিতে এসেছিলেন এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
সবশেষে তামিম বলেন, কোকোর অবদান নতুন প্রজন্মের জানা উচিত। সুযোগ পেলে তার দুই মেয়ের কাছেও তিনি তাদের বাবার ভূমিকা নিয়ে আরও কথা বলতে চান বলে জানান।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৬জানুয়ারি২৬/টিএ
