
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ফাইনালের মধ্য দিয়ে গতকাল (রোববার) পর্দা নেমেছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। আহমেদাবাদে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে ভারত। একইসঙ্গে একমাত্র দল হিসেবে এই সংস্করণে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম ইন্ডিয়া।
টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার একদিন পর সোমবার (৯ মার্চ) সেরা দল ঘোষণা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। যেখানে অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়া দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম।

২০২৬ আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ছবি- আইসিসি
আইসিসি ঘোষিত সেরা দলে জায়গা পেয়েছেন মোট সাতটি দেশের ১২ জন ক্রিকেটার। এই দলে আধিপত্য বিস্তার করেছে ভারত। সর্বোচ্চ ৪ জন ভারতীয় জায়গা পেয়েছেন এই একাদশে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ড থেকে ২ জন করে জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে থেকে একজন করে এবং দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এক ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে এই একাদশে।
ওপেনিংয়ে রয়েছেন পাকিস্তানি ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান এবং তার সঙ্গী ভারতের ঈশান কিষান। ফারহান টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৭ ম্যাচে ৭৬.৬০ গড়ে ৩৮৩ রান করেছেন তিনি। যেখানে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে। প্রথম ব্যাটার হিসেবে এক বিশ্বকাপে দুটি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন তিনি। অন্যদিকে ঈশান কিষান ৯ ম্যাচে ১৯৩.২৯ স্ট্রাইক রেট ও ৩৫.২২ গড়ে ৩১৭ রান করেছেন। তার তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে।
তিনে রয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জেতা সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ৫ ম্যাচে সুযোগ পেয়েই ৮০.২৫ গড় ও ১৯৯.৩৮ স্ট্রাইক রেটে ৩২১ রান করেন। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ৯৭, সেমিফাইনালে ৮৯ এবং ফাইনালে ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ। ছবি- আইসিসি
মিডল অর্ডারে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম, ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া ও ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস। মার্করাম ব্যাট হাতে ২৮৬ রান করার পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন দুর্দান্ত। তাই এই সেরা একাদশের নেতৃত্বও পেয়েছেন তিনি। হার্দিক পান্ডিয়া ৯ ম্যাচে ২১৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেছেন ৯ উইকেট। আর ইংলিশ অলরাউন্ডার উইল জ্যাকসও ৮ ম্যাচে ব্যাট হাতে ২২৬ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৯ উইকেট নেন।
বোলারদের মধ্যে আধিপত্য বেশি পেসারদের। চার পেসারের বিপরীতে জায়গা পেয়েছেন এক স্পিনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেসন হোল্ডার, দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লুঙ্গি এনগিডি, ভারতের পেসার জাস্প্রতিত বুমরাহ এবং জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। আর একমাত্র স্পিনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ।
পুরো আসরে জেসন হোল্ডার ৭ ম্যাচে মোট ১০টি উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া ব্যাট হাতেও ১৪১ রান করেন। বুমরাহ ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন এই তারকা। প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিডি ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে তারকা ব্লেসিং মুজারাবানি ৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেন। এছাড়া আদিল রশিদ ৮ ম্যাচে নেন ১৩ উইকেট শিকার করেন।
১২তম খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেসার শাডলি ফন শ্যালকউইক। মাত্র ৪ ম্যাচে ১৩ উইকেট শিকার করেছেন এই পেসার।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ-
সাহিবজাদা ফারহান, ঈশান কিশান, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, উইল জ্যাকস, জেসন হোল্ডার, জাসপ্রিত বুমরাহ, লুঙ্গি এনগিডি, আদিল রশিদ ও ব্লেসিং মুজারাবানি।
১২তম খেলোয়াড় : শাডলি ফন শ্যালকউইক
ক্রিফোস্পোর্টস/১০মার্চ২৬/বিটি
























