
বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশ নিলেও নকআউট পর্বে নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারছিল না সুইজারল্যান্ড। ২০০৬ সালের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই খেলেছে দলটি, কিন্তু প্রতিবারই বিদায় নিতে হয়েছে প্রথম বা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। শেষ ষোলোর ম্যাচে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইসরা। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১২০ মিনিটের খেলায় কোনো দলই গোল করতে পারেনি।
ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে কলম্বিয়া। ২১ মিনিটে কেভিন পুয়ের্তার বাঁকানো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। এরপরও কয়েকবার আক্রমণে ওঠে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি, তবে গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে সুইজারল্যান্ডও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ৫০ মিনিটের দিকে এনদোয়ের পাস থেকে জিব্রিল সো ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ফাঁকা জায়গা থেকে নেওয়া তাঁর শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ৬৪ মিনিটে কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজও একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ম্যাচ যত এগিয়েছে, দুই দলই রক্ষণে বেশি মনোযোগ দেয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
অতিরিক্ত সময়েও গোলের অপেক্ষা শেষ হয়নি। ১১৬ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায় কলম্বিয়া। সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন কাম্পাস। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পেয়েও তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে সুইজারল্যান্ড ছিল বেশি আত্মবিশ্বাসী। কলম্বিয়ার হয়ে দাভিনসন সানচেজ ও কুচো হার্নান্দেজ গোল করতে ব্যর্থ হন। হার্নান্দেজের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক কোবেল। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের হয়ে শুধু মানুয়েল আকাঞ্জির শট মিস হয়। বাকি চারজন সফল হওয়ায় ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সুইসরা।
পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে ছিল কলম্বিয়াই। তারা ম্যাচে ১৫টি শট নেয়, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। এছাড়া সাতটি কর্নারও আদায় করে তারা। সুইজারল্যান্ডের শট ছিল সাতটি এবং কর্নার মাত্র তিনটি। তবে আক্রমণে পিছিয়ে থেকেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয় ইউরোপের দলটি।
এই জয়ে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল সুইজারল্যান্ড। শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আগামী রোববার তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ক্রিফোস্পোর্টস/৮জুলাই২৬/টিএ




















