
বাংলাদেশের ক্রিকেটে যুক্ত হলো নতুন প্রযুক্তি। প্রথমবারের মতো দেশে আনা হয়েছে স্পিন বোলিং মেশিন। আজ মিরপুরে জাতীয় দলের দক্ষতা উন্নয়ন অনুশীলনে এই মেশিন ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এর মাধ্যমে স্পিন বোলিং মোকাবিলার অনুশীলন আরও বাস্তবধর্মীভাবে করতে পারবেন ব্যাটসম্যানরা।
এতদিন দেশে যেসব বোলিং মেশিন ব্যবহার করা হতো, সেগুলো মূলত দ্রুতগতির বল বা বাউন্সার সামলানোর জন্যই ছিল। স্পিন বোলিং অনুশীলনের জন্য আলাদা কোনো মেশিন ছিল না। নতুন এই সংযোজন সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বের অনেক দেশেই এই ধরনের মেশিন আগে থেকেই ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে স্পিনার তুলনামূলক কম থাকায় খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করতে এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশও এবার এই মেশিন যুক্ত করল।
ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা শাহরিয়ার নাফীস জানান, প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড খরচ করে মেশিনটি কেনা হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই মেশিন আনার পরিকল্পনা ছিল। অর্ডার দেওয়ার পর সম্প্রতি সেটি দেশে পৌঁছেছে। মেশিনটি বেশ ভারী হওয়ায় উড়োজাহাজে না এনে জাহাজে করে আনা হয়েছে।
এই মেশিনের অন্যতম সুবিধা হলো, এটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্পিন বলের অনুশীলন করা যায়। অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং আর্মার তিন ধরনের বলই খেলা সম্ভব। পাশাপাশি বলের গতি ও কোথায় ফেলবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে ব্যাটসম্যানরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অনুশীলন সাজাতে পারেন।
মেশিনটি হাতে নিয়ন্ত্রণ করে চালানো যায়, আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবেও চালানো সম্ভব। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালালে একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০টি বল খেলার সুযোগ থাকে। এতে করে কম সময়ে বেশি অনুশীলন করা সম্ভব হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মেশিন ব্যবহারের ফলে জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানরা স্পিন বোলিং মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত হতে পারবেন। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে, যেখানে মানসম্মত স্পিনের মুখোমুখি হতে হয়, সেখানে এই অনুশীলন কাজে লাগবে।
সব মিলিয়ে নতুন এই সংযোজন বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুশীলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৬এপ্রিল২৬/টিএ






















