বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। শুরু থেকেই নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে তারা। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের নিয়ে গড়া ফরাসি আক্রমণভাগকে খুব বেশি সুযোগই দেয়নি স্প্যানিশরা। মিকেল ওইয়ারজাবাল ও পেদ্রো পোরোর গোলে নিশ্চিত হয় স্পেনের জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠল স্পেন। আগামী ১৯ জুলাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড। শুধু ফাইনাল নিশ্চিতই নয়, এই ম্যাচে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন এখন টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত। ইউরোপের কোনো পুরুষ জাতীয় দলের দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ডে ইতালির পাশে নাম লিখিয়েছে তারা। ফাইনালে জিততে পারলে নতুন রেকর্ড গড়বে স্প্যানিশরা। এছাড়া ২০০৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে দলটি।
চলতি বিশ্বকাপে টানা ছয়টি ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ছয়টিতেই কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন কীর্তি এই প্রথম। গোলরক্ষক উনাই সিমোনও এক আসরে সর্বোচ্চ ছয়টি গোলশূন্য ম্যাচ খেলার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন।
অন্যদিকে স্পেনের বিপক্ষে এসে থেমে গেছে ফ্রান্সের টানা ১০ ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতা। একই সঙ্গে শেষ হয়েছে তাদের টানা ছয় ম্যাচ জয়ের পথচলাও। ম্যাচে ফ্রান্সের আক্রমণ ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। কিলিয়ান এমবাপে পুরো ম্যাচে লক্ষ্যভেদী একটি শটও নিতে পারেননি, যা তার সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে বিরল ঘটনা।
ব্যক্তিগত অর্জনেও উজ্জ্বল ছিলেন স্প্যানিশ ফুটবলাররা। মিকেল ওইয়ারজাবাল এক বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করা স্পেনের তৃতীয় ফুটবলার হয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার ৩০তম গোল। অন্যদিকে দানি ওলমো বড় আসরে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ আটটি গোলে সহায়তা করার রেকর্ডে সেস ফাব্রেগাসের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন। তরুণ লামিনে ইয়ামালও নতুন একটি নজির গড়েছেন। ১৯ বছর ১ দিন বয়সে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পেনাল্টি আদায় করা গত ৬০ বছরের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৫জুলাই২৬/টিএ



