Connect with us
ক্রিকেট

আইসিসির ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ

RSA and WI
আইসিসির কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ছবি: সংগৃহীত

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদায় নিয়েছে ১ মার্চ, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ মার্চ। কিন্তু তাদের পরে বাদ পড়েও আগেই ভারত ছেড়েছে ইংল্যান্ড। ৫ মার্চ সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের দুই দিনের মাথায়, ৭ মার্চ ভাড়া করা বিশেষ বিমানে দেশে ফিরেছেন হ্যারি ব্রুকরা।

নিজেদের আগে বিদায় নেওয়া দুই দলকে রেখে ইংল্যান্ডকে দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)–এর ওপর ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সংস্থাটির এমন আচরণে ‘ক্ষমতার প্রভাব’ কাজ করেছে বলেও প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে অঞ্চলটির আকাশপথ ব্যবহারে বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বকাপ খেলে ফেরার যাত্রাতেও। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলতে আসা কয়েকটি দল সময়মতো দেশে ফিরতে পারেনি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ে দল সুপার এইট থেকে বাদ পড়ার পর কয়েক দিন অপেক্ষা করে ভারত ছাড়তে পেরেছে।



বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল –এর ওপর। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিক ইনফো –এর খবরে বলা হয়, ইংল্যান্ড দলের জন্য ভাড়া করা বিশেষ উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করায় শনিবার ভারত ছেড়ে গেছেন হ্যারি ব্রুকরা। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার দল দেশে ফিরবে ৮ মার্চ।

এ পরিস্থিতিতে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলার। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইংল্যান্ড দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পরে বাদ পড়েও আজ রাতে ভাড়া করা বিশেষ উড়োজাহাজে বাড়ি ফিরছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো কলকাতায় উত্তরের অপেক্ষায় বসে আছে।

মিলারের ওই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন সামি। মন্তব্যের ঘরে তিনি লেখেন, মিলার, যাঁরা পেছনে আছেন তাঁরা যেন শুনতে পান, সে জন্য দয়া করে আর একটু জোরে বলুন স্যার।

এরপর স্যামিকে ট্যাগ করে মিলার আরও তীব্র ভাষায় আইসিসির সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ইংল্যান্ডের জন্য বিশেষ উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করতে আইসিসির খুব একটা সময় লাগে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাত দিন ধরে বিশেষ উড়োজাহাজের অপেক্ষায় আছে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার চার দিন হয়ে গেছে। তবুও আমরা এখনো অপেক্ষায়।

একই সুর শোনা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক–এর কণ্ঠেও। ইনস্টাগ্রাম বার্তায় তিনি লেখেন, আইসিসি, আমরা এখনো কিছুই জানতে পারিনি। অথচ ইংল্যান্ড আমাদের আগেই কোনোভাবে চলে যাচ্ছে? ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারেই অন্ধকারে পড়ে আছে। অদ্ভুত ব্যাপার যে কিছু দলের প্রভাব অন্যদের চেয়ে কত বেশি।

শুধু খেলোয়াড় বা কোচই নন, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ইংল্যান্ড বৃহস্পতিবার বিদায় নিয়েছে এবং আজই বিশেষ উড়োজাহাজে দেশে ফিরছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ গত রোববার টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েও এখনো কলকাতায় আছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও একই অবস্থায়। এখানেই বোঝা যায় ক্ষমতার ভারসাম্যটা ঠিক নেই।

তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সব দলের প্রতি সমান আচরণ করা উচিত। আইসিসির টেবিলে আপনি বেশি শক্তিশালী বলেই আলাদা সুবিধা পাবেন, এটা হওয়া উচিত নয়।

আইসিসির ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

ক্রিফোস্পোর্টস/৮মার্চ২৬/টিএ

Crifosports announcement

Focus

More in ক্রিকেট