১২ বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও টেস্ট দলে নিজের জায়গা স্থায়ী করতে পারেননি সৌম্য সরকার। দীর্ঘ সময় দল থেকে বাইরে থাকার পর পাঁচ বছর পর আবারও বাংলাদেশের টেস্ট দলে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলে তাঁকে রাখা হয়েছে মাহমুদুল হাসান জয়ের জায়গায়।
দল ঘোষণার পর সৌম্যকে ফেরানো নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। কারণ তিনি সবশেষ টেস্ট খেলেছিলেন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের পরিসংখ্যানও খুব বেশি আলোচিত নয়। এখন পর্যন্ত ৯৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৬টি শতক ও ৩৫টি অর্ধশতকে ৫ হাজার ৪৫৬ রান করেছেন। তাঁর ব্যাটিং গড় ৩৩ দশমিক ৯৭।
আজ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, সৌম্যকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা পরিস্থিতির কারণেই নিতে হয়েছে। তিনি জানান, জাতীয় ক্রিকেট লিগে যাঁরা ভালো খেলেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই নতুন। তাঁদের মধ্যে জাকির হাসানের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও সৌম্যর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা বেশি। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুতগতির বোলিংয়ের বিপক্ষে আগে খেলার অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে। নির্বাচকদের মতে, এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।
সবশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগে ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটিয়েছেন সৌম্য। সাত ম্যাচে ৬৩৩ রান করে তিনি ছিলেন প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। একটি শতক ও চারটি অর্ধশতক করেছেন। একই প্রতিযোগিতায় জাকির হাসান ৬২৮ রান করেন। তবে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে সৌম্যকে বেশি এগিয়ে রেখেই তাঁকে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে নেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাচক আরও বলেন, পাইপলাইনে থাকা আশিকুর রহমান শিবলি, প্রীতম কুমারদের মতো তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাঁদের এখনই টেস্ট দলে না এনে আরও কিছু সময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সফরে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার চেয়ে অভিজ্ঞ একজন উদ্বোধনী ব্যাটারকে নেওয়াই বেশি যুক্তিযুক্ত।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকেতে অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে রয়েছে। আর বাংলাদেশ রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৭জুলাই২৬/টিএ



