
এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে চমক দেখানো নাম জিম্বাবুয়ে। আর ওই জিম্বাবুয়েকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সুপার এইটে তুলেছেন দলটির অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। যিনি কীনা ওই দেশে জন্মই নেননি। যার ছোটবেলায় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নই ছিল না। সেই রাজা আবারও আইসিসির টি-টুয়েন্টিতে অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে সিংহাসনের মুকুট পরেছেন।
একবার এক সাক্ষাৎকারে সিকান্দার রাজা বলেছিলেন, জিম্বাবুয়ের ম্যাচ যদি থাকে নাইজেরিয়ার সাথে। আমি যদি তখন আইপিএলেও থাকি, তবুও আমি জিম্বাবুয়ের জার্সি গায়ে খেলতে হাজির হবো। এই সিকান্দার রাজাই বর্তমান জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের উত্থানের কারিগর।

টেস্ট ক্রিকেটের সাদা জার্সিতেও উজ্জ্বল সিকান্দার রাজা।
এবারের আসরে গ্রুপপর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন রাজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে দুইয়ে ঠেলে শীর্ষস্থানে উঠে এলেন রাজা। তার রেটিং পয়েন্ট ২৯৪। সাইম আইয়ুবের রেটিং পয়েন্ট ২৮১।
রাজা শিয়ালকোটে একটি পাঞ্জাবিভাষী কাশ্মীরি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুল লোয়ার টোপায় তিন বছর পড়াশোনা করেন। ওই সময়ে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাইলট হতে চাইতেন। চেষ্টাও করেছিলেন কিন্তু পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে নির্বাচনের জন্য বাধ্যতামূলক দৃষ্টি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর তার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
২০০২ সালে, রাজা তার পরিবারের সাথে জিম্বাবুয়ে চলে যান। তিনি স্কটল্যান্ডে যান, যেখানে তিনি গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এখানেই রাজা আধা-পেশাদার ক্রিকেট খেলেছিলেন।

অনুশীলনের ফাঁকে হয়তো ফেলে আসা অতীতের সাথে বর্তমানের হিসাব মেলাচ্ছেন রাজা।
লোগান কাপে চমকপ্রদ ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনার মাধ্যমে জিম্বাবুয়ের নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন সিকান্দার রাজ বাট। নাগরিকত্ব নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হলেও ২০১১ সালে এ সমস্যার সমাধান হয়।
২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ে দলের হয়ে খেলতে শুরু করেন। নর্দার্নসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন তিনি। শুরুতে নর্দার্নসে হয়ে লিস্ট এ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করলেও পরবর্তীকালে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসে স্থানান্তরিত হন রাজা। ২০১০ সালে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে সাউদার্ন রক্সের পক্ষে ডেজার্ট ভাইপার্স দলের বিপক্ষে অভিষেক ঘটে।
২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে ঠাঁই পেলেও চূড়ান্ত দলে ঠাঁই হয়নি তার। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ের নাগরিকত্ব অর্জন করেন রাজা। ৩ মে, ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সিকান্দারের। ঐ ম্যাচে ৩ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি মাত্র ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

পাইলট হওয়ার শখ থেকেই হয়তো এই উদযাপন করেন সিকান্দার।
এরপর গত কয়েক বছরে নিজেকে জিম্বাবুয়ের প্রধান ক্রিকেটার হিসেবেই গড়েছেন। বহু ম্যাচ জয়ের সাক্ষী রাজা এখন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটা রোডেশিয়ানই হয়তো এখন গর্ব করে বলেন, সিকান্দার আমাদেরই ছেলে।
যার চোখে ছিল আকাশে ওড়ার স্বপ্ন, সেই রাজা এখন দুহাত ছড়িয়ে আকাশে ওড়ার উদযাপনে মাতেন। হয়তো মনে মনে তখন বলে ওঠেন, আমি ফাইটার পাইলট হতে পারিনি। কিন্তু মানুষ হিসেবে একজন যোদ্ধা। সেই যুদ্ধ দিয়ে ভেঙে পড়া জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটকে টেনে তুলছেন সিকান্দার।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৬ফেব্রুয়ারি২৬/এজে























