
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে শুরুটা মোটেও স্বস্তির ছিল না বাংলাদেশের জন্য। পাকিস্তানের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। মাত্র ৩১ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে দল যখন কঠিন পরিস্থিতিতে, তখন হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক।
দুজনের দায়িত্বশীল ও ধৈর্যপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৭০ রানের জুটিতে মধ্যাহ্ন বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১০১ রান। মধ্যাহ্ন বিরতির পরেও সেই জুটি অব্যাহত থাকে।
অধিনায়ক শান্ত শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। বল ছেড়ে খেলার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই রান তুলেছেন। ৭টি চার ও ১ টি ছয়ের সাহায্যে তিনি ৬৬ রানে অপরাজিত আছেন। অন্যদিকে মুমিনুল হকও নিজের স্বভাবসুলভ ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ইনিংস গড়েছেন। তিনিও ৭টি চারের সাহায্যে ৪৬ রানে অপরাজিত থেকে বিরতিতে যান।
বাংলাদেশের প্রথম ধাক্কা আসে মাহমুদুল হাসান জয়ের বিদায়ে। ইনিংসের শুরুতে ৪ রানে জীবন পেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। শাহিন শাহ আফ্রিদির দারুণ এক ডেলিভারিতে ৮ রান করে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন জয়।
অন্য ওপেনার সাদমান ইসলামও ইনিংস বড় করতে পারেননি। হাসান আলীর বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৩ রান করে। দুই ওপেনারের বিদায়ে দ্রুত চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে এরপর শান্ত ও মুমিনুল আর কোনো বিপদ হতে দেননি। পাকিস্তানের পেস আক্রমণ সামলে ধৈর্যের সঙ্গে রান তুলে দলকে স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে যান তারা। তাদের জুটি শুধু রানই যোগ করেনি, শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে দলকে আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছে।
এর আগে টসে জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান।
এই টেস্টে বাংলাদেশ দলে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। পেসার খালেদ আহমেদ ও স্পিনার হাসান মুরাদ একাদশের বাইরে গেছেন। তাদের জায়গায় ফিরেছেন নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদ।
পাকিস্তান শিবিরেও বড় অনুপস্থিতি রয়েছে। বাঁ হাঁটুর চোটের কারণে ম্যাচের আগের রাতেই ছিটকে যান দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজম।
প্রথম সেশনে শুরুতে বিপদে পড়লেও শান্ত ও মুমিনুলের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ লাঞ্চে নিজেদের ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। দ্বিতীয় সেশনে এই জুটি কত বড় সংগ্রহ গড়তে পারে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
ক্রিফোস্পোর্টস/৮মে২৬/টিএ




















