টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাকী ম্যাচগুলো খেললেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল (রোববার) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার জানায়, পাকিস্তান দলকে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দেওয়া হলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নিরাপত্তা শঙ্কায় মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় বিসিসিআই। এরই প্রেক্ষীতে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে সরকার, সাথে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের জন্য আইসিসির কাছে আবেদন করে বিসিবি। কয়েক দফা বৈঠকেও হয়নি মিমাংসা, নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানায় আইসিসি।
বাংলাদেয়কে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান মহসিন নাকভি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দেওয়া না হলে পাকিস্তান দল টুর্নামেন্ট বর্জনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও দলের খেলোয়াড়দের সাথে বৈঠকের পর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পাকিস্তান সরকারের পোস্টে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০২৬ আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিচ্ছে। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল মাঠে নামবে না।’
পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় আইসিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান যদি বেছে বেছে কিছু ম্যাচে অংশ নেয়, তবে সেটি টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তকে ক্রিকেট–বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের জন্য হতাশাজনক আখ্যা দিয়ে আইসিসি পিসিবিকে অনুরোধ করেছে একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজতে।’
পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের পর আলোচনার ঝড় উঠে ক্রিকেট বিশ্বে। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তের প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও করেছেন অনপকে। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন আফ্রিদি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা এক পোস্টে আফ্রিদি লেখেন, ‘আমি সব সময়ই বিশ্বাস করেছি, রাজনীতি যেসব দরজা বন্ধ করে দেয়, ক্রিকেট সেসব খুলতে পারে। এটা দুঃখজনক যে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলবে না। কিন্তু আমি আমার সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে আছি।’
আইসিসিকে নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের পরামর্শ দিয়ে আফ্রিদি আরও লিখেছেন, ‘আইসিসির জন্য এখনই সময় তাদের নেতৃত্বের প্রমাণ দেখানোর। শুধু বিবৃতির মাধ্যমে নয়; বরং সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে তারা প্রতিটি সদস্যের প্রতি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও ন্যায্য।’
ক্রিফোস্পোর্টস/২ফেব্রুয়ারি২৬/এআই
