
আফ্রিকা মহাদেশের ফুটবল আসরের শিরোপা জয়ের দুই মাস পর হঠাৎই সেই সাফল্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে সেনেগাল। জানুয়ারিতে ফাইনালে জয় তুলে নিলেও পরে আফ্রিকান ফুটবল সংস্থার আপিল বিভাগ সেই ফল বাতিল করে মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নয় সেনেগাল। তাই তারা এখন ক্রীড়া সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে।
সেনেগাল ফুটবল সংস্থা জানিয়েছে, তারা শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। এমনকি দেশটির সরকারও পুরো বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। আপিল করার সময় বাড়তি সময়ও চেয়েছিল তারা, কারণ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তখনও দেওয়া হয়নি।
ক্রীড়া আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। তবে এই প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ফাইনাল ম্যাচ থেকেই। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষদিকে মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগালের খেলোয়াড়রা কিছু সময়ের জন্য মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। এতে ম্যাচে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরে খেলা আবার শুরু হলে মরক্কোর নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক। এরপর অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় সেনেগাল।
এর আগেও সেনেগালের একটি গোল বাতিল হওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
মাঠে বিশৃঙ্খলার কারণে সেনেগালকে জরিমানা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়। তবে শুরুতে ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত ছিল। পরে আপিল বিভাগ সেই ফল বদলে দিয়ে সেনেগালকে অযোগ্য ঘোষণা করে এবং মরক্কোকে বড় ব্যবধানে জয়ী দেখায়।
এখন সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর আশায় শেষ ভরসা হিসেবে ক্রীড়া আদালতের দিকেই তাকিয়ে আছে সেনেগাল। চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত শিরোপা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৬মার্চ২৬/টিএ



















