ঘরের মাঠ, উপচে পড়া দর্শক আর দীর্ঘদিনের শিরোপা-স্বপ্ন সবই ছিল মরক্কোর পক্ষে। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসল সেনেগাল। নাটক, বিতর্ক আর উত্তেজনায় পরিপূর্ণ এক ফাইনালের পর ইতিহাস গড়ে আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের শিরোপা জিতল সেনেগাল।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ভিএআর দেখে মরক্কোর পক্ষে স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি জ্যাঁ-জ্যাকস এনদালা। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়েন, গ্যালারিতেও শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। প্রায় আধঘণ্টা পর খেলা আবার শুরু হলে যোগ করা সময়ের ২৪তম মিনিটে পেনাল্টি নিতে আসেন ব্রাহিম দিয়াজ। কিন্তু চাপ সামলাতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার। তার শট অনায়াসে ধরে ফেলেন সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্দি।
সেই মুহূর্ত থেকেই যেন নতুন করে উজ্জীবিত হয় সেনেগাল। অতিরিক্ত সময়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে তারা। চতুর্থ মিনিটেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। মাঝমাঠ থেকে সাদিও মানের পাস পেয়ে ইদ্রিসা গানা গুয়েই এগিয়ে দেন বল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে মরক্কোকে গোল করেন পাপে গুয়েই। গ্যালারিতে উপস্থিত অর্ধলক্ষাধিক দর্শক তখন নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
এর আগে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ইসমাইল সার গোল করলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর শেষ চেষ্টা হিসেবে নায়েফ আগুয়ার্দের হেড লেগে বল ফেরে ক্রসবারে।
একমাত্র গোলের নায়ক পাপে গুয়েই ম্যাচ শেষে বলেন, “আমরা সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল, কিন্তু জয়ের ব্যাপারে আমরা দৃঢ় ছিলাম। এই দেশ সুন্দর, তাদের সমর্থকরাও দুর্দান্ত। সেনেগাল আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন এটা আমাদের জন্য গর্বের।”
এই জয়ের মাধ্যমে তিন বছরের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হলো সেনেগাল। অন্যদিকে ঘরের মাঠে খেলেও ৫০ বছরের শিরোপা-খরা কাটাতে পারল না মরক্কো।
ম্যাচ শেষে মরক্কো কোচ প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানালেও হতাশা লুকাননি, “সেনেগাল জয়ের যোগ্য। তবে পেনাল্টির পর মাঠে যা ঘটেছে, তা আফ্রিকান ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্য ভালো নয়।”
সব বিতর্ক ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঠল সেনেগালের হাতেই। ইতিহাসের পাতায় আরও একবার নিজেদের নাম লেখাল আফ্রিকার নতুন এই শক্তি।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৯জানুয়ারি২৬/টিএ
