
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগুনের লাল কার্ড নিয়ে। একই ধরনের ঘটনায় লিওনেল মেসি শাস্তি না পেলেও বালোগুনকে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন বালোগুন। পরে দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল নেওয়ার চেষ্টায় প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের পায়ের পেছনে তাঁর বুট লাগে। প্রথমে রেফারি কোনো ফাউল দেননি। পরে খেলা বন্ধ হলে মাঠের পাশের পর্দায় ঘটনাটি দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে ম্যাচের শেষ ভাগে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।
এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকদের আলোচনায় উঠে আসে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ম্যাচের একটি ঘটনা। সেই ম্যাচে মেসিও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের পায়ের পেছনে বুট লাগিয়েছিলেন। কিন্তু তখন রেফারি শুধু ফাউলের বাঁশি বাজান, কোনো কার্ড দেখাননি। মাঠের বাইরে থাকা ভিডিও সহকারী রেফারিও হস্তক্ষেপ করেননি।
সাবেক রেফারি মার্ক হ্যালসি মনে করেন, মেসির সেই ফাউলও প্রতিপক্ষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছিল এবং সেটি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার রিও ফার্ডিনান্ড বলেন, একই ধরনের ঘটনায় দুই রকম সিদ্ধান্ত ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন তৈরি করছে। তাঁর মতে, সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রশিক্ষক মাউরিসিও পচেত্তিনোর মত ভিন্ন। তিনি বলেন, বালোগুনের ঘটনায় ইচ্ছাকৃত আঘাতের কোনো চেষ্টা ছিল না। তাঁর মতে, এটি খেলার স্বাভাবিক গতিতে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা। একই সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর চোখে মেসি কিংবা বালোগুন কোনো ঘটনাই সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো ছিল না।
লাল কার্ড পাওয়ায় আগামী মঙ্গলবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারবেন না বালোগুন। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি বড় ধাক্কা। কারণ চলতি বিশ্বকাপে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোলদাতা তিনি।
ক্রিফোস্পোর্টস/২জুলাই২৬/টিএ





















