Connect with us
ফুটবল

২০২৬ বিশ্বকাপে গোলের বন্যা, রহস্য জানালেন গবেষকরা

Lionel Messi sets record as World Cup's
গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে বল জালে জড়াচ্ছে। ছবি- সংগৃহীত

গত বিশ্বকাপে যেখানে ৬৪ ম্যাচে গোল হয়েছিল ১৭২টি সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে এবারের বিশ্ব আসরে মাত্র ৫৪ ম্যাচেই গোল হয়েছে ১৬১টি! গোলরক্ষকদের হাত ছুঁয়ে যেভাবে বল জালে জড়াচ্ছে, এই দৃশ্য বিশ্ব ফুটবলে বিরল।

সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক জো হার্ট বিশ্বকাপের মাঠে এমন গোলবন্যার পেছনে অফিশিয়াল বল অ্যাডিডাস ‘ট্রিওন্ডা’কে দায়ি করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণে তিনি জানান, ফুটবলারের পা থেকে বের হওয়ার পর বলটির গতি যতটা মনে হয়, গোলরক্ষকদের কাছে পৌঁছানোর সময় এটি তার চেয়েও বেশি গতিতে ছুটে আসে। ফলে বলের গতি অনুমান করতে গোলরক্ষকদের বেগ পেতে হচ্ছে।



এদিকে জো হার্টের এমন সন্দেহের পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণও খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।

ড্র্যাগ ক্রাইসিস

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল উইমেনস ইউনিভার্সিটি ও জাপানের ইউনিভার্সিটি অব সুকুবোর একদল গবেষক উইন্ড টানেলে ‘ট্রিওন্ডা’ বল নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। তাদের প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন, ‘ওরিয়েন্টেশন-ডিপেন্ডেন্ট ড্র্যাগ ক্রাইসিস অ্যান্ড ফ্লাইট রেসপন্স অব দ্য ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ম্যাচ বল ট্রিওন্ডা’-তে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য, যার বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘ড্র্যাগ ক্রাইসিস’।

FIFA World Cup 2026 Official Ball Trionda

মূলত বাতাসে কোনো বল ছুটে গেলে তার গতির বিপরীতে একটি বাধা বা ‘ড্র্যাগ’ কাজ করে, যা বলের গতি ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। গোলরক্ষকেরা বছরের পর বছর ধরে অনুশীলন করে এই স্বাভাবিক গতিপথ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেন। কিন্তু ট্রিওন্ডা বলটি একটি নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। তখন বলের চারপাশের বায়ুপ্রবাহ হঠাৎ মসৃণ অবস্থা থেকে উত্তাল হয়ে পড়ে। এর ফলে বলের পেছনে তৈরি হওয়া বায়ু-প্রতিরোধ দ্রুত কমে যায় এবং বলটি গতি হারানোর পরিবর্তে উল্টো আরও দ্রুতগতিতে ছুটে যায়। এই অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত গতিই গোলরক্ষকদের হিসাব এলোমেলো করে দিচ্ছে।

গবেষকদের দাবি, ট্রিওন্ডার এই অদ্ভুত আচরণের পেছনে মূল কারণ এর চার-প্যানেলের বিশেষ নকশা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ‘আল রিহলা’ বলে যেখানে ২০টি প্যানেল ছিল, সেখানে এবার মাত্র ৪টি প্যানেল ব্যবহার করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। বলের গভীর খাঁজ ও প্যানেল সংযোগস্থলের এই নকশার কারণেই তুলনামূলক কম গতিতেও ‘ড্র্যাগ ক্রাইসিস’ তৈরি হচ্ছে। ফলে গোলরক্ষকেরা বলের যে গতি অনুমান করছেন, বাস্তবে বল তার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতিতে তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ল্যাবের পরীক্ষার সঙ্গে মিলছে না মাঠের বাস্তবতা

অ্যাডিডাস দাবি করেছে, ট্রিওন্ডাকে চূড়ান্ত করার আগে ল্যাবে ৩০০ বারেরও বেশি পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, যাতে এর গতিপথ আরও অনুমানযোগ্য হয়। তবে মাঠের বাস্তব চিত্র বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। গোলরক্ষকদের জন্য এই বল এখনও এক বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রিফোস্পোর্টস/২৫জুন২৬/এসএ

Crifosports announcement

Focus

More in ফুটবল