শেষ রাউন্ডে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই ছিল। জিতলেই সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করত রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু লিসবনে বেনফিকার সামনে সেই হিসাব মেলেনি। আক্রমণাত্মক ফুটবলে স্প্যানিশ জায়ান্টদের ৪–২ গোলে হারিয়ে সেরা আটের বাইরে ঠেলে দিয়েছে জোসে মরিনিয়োর দল।
পরাজয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে নেমে গেছে রিয়াল। ফলে শেষ ষোলোয় যেতে হলে খেলতে হবে প্লে–অফ। গত মৌসুমেও একই পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল তাদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল সফরকারীরা। বল দখলে পিছিয়ে থেকেও আক্রমণে জোরালো ছিল বেনফিকা। ২২টি শটের ১২টি ছিল লক্ষ্যে, যেখানে রিয়াল ১৬৷ বারের প্রচেষ্টায় মাত্র ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে। প্রথমার্ধেই একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকরা। থিবো কোর্তোয়া কয়েকটি সেভ না করলে বিরতির আগেই ব্যবধান বড় হতে পারত।
তবে ম্যাচের প্রথম গোল আসে রিয়ালের পক্ষে। ৩০তম মিনিটে রাউল আসেন্সিওর ক্রস থেকে হেডে দলকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে। সেটাই ছিল লক্ষ্যে তাদের প্রথম শট। কিন্তু সেই লিড টেকেনি বেশি সময়। ছয় মিনিট পর আন্দ্রেয়াস শেলদ্রোপের হেডে সমতা ফেরায় বেনফিকা।
বিরতির আগে পেনাল্টি থেকে পাভলিদিস গোল করে এগিয়ে দেন পর্তুগিজ ক্লাবকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও একই চিত্র। ৫৪তম মিনিটে শেলদ্রোপ নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ৩–১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল। কিছুক্ষণ পর এমবাপে নিচু শটে ব্যবধান কমালেও ম্যাচে ফেরার মতো আক্রমণ আর দেখাতে পারেনি তারা।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে জোড়া গোল করলেন এমবাপে। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে, মৌসুমে মোট ৩৬। কিন্তু তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও দলকে হার থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
শেষ দিকে রদ্রিগো ও এমবাপের সুযোগ দুটিও ঠেকিয়ে দেন বেনফিকার গোলরক্ষক আনাতোলি ত্রুবিন। যোগ করা সময়ে রাউল আসেন্সিও ও রদ্রিগো লাল কার্ড দেখলে আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি রিয়াল।
ফ্রি–কিক থেকে শেষ আক্রমণে নিজ পোস্ট ছেড়ে সামনে উঠে আসেন ত্রুবিন। উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান ৪–২ করেন ইউক্রেনীয় গোলরক্ষক। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় বেনফিকার পরের পর্বে ওঠা। আট ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে ২৪তম স্থানে থেকে প্লে–অফ নিশ্চিত করে তারা।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৯জানুয়ারি২৬/টিএ
