নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে কোনো প্রকার ছাড় দেখালেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। বরং সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাতে মোনাকোর বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের গোলউৎসবের নেতৃত্ব দিলেন তিনিই। এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দাপটে ৬-১ গোলের বড় জয় তুলে নেয় রিয়াল।
ম্যাচের আগের দিন এমবাপ্পে বলেছিলেন, পেশাদার ফুটবলার হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে মোনাকোর বড় ভূমিকা আছে। কিন্তু মাঠে নামার পর সেটার কোনো ছাপ ছিল না। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক রিয়ালকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ফরাসি তারকা। প্রথম ২৬ মিনিটেই দুই গোল করে ম্যাচ মূলত একপেশে করে দেন তিনি।
পঞ্চম মিনিটেই রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। ফেদেরিকো ভালভের্দের পাস থেকে বক্সের ভেতর নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি। গোল হজমের পর সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল মোনাকো। তবে আনসু ফাতি সামনে পেয়েও সুযোগ নষ্ট করলে রিয়াল আরও চড়াও হতে থাকে।
২৬ মিনিটে আসে এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাইরের পায়ের দৃষ্টিনন্দন পাস থেকে সহজ ফিনিশ করেন তিনি। এটি ছিল চলতি মৌসুমে এমবাপ্পের ৩২তম গোল, যা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মাত্র ছয় ম্যাচেই ১১তম।
এরপরও লড়াইয়ের চেষ্টা করেছে মোনাকো। প্রথমার্ধে জর্ডান তেজের দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, কয়েকটি শটে দৃঢ়তা দেখান থিবো কোর্তোয়া। তবে বিরতিতে যাওয়ার আগে গোলের দেখা পায়নি ফরাসি ক্লাবটি।
দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের দাপট আরও বাড়ে। ফ্রাঙ্কো মাসতান্তুয়োনো নিজের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এরপর থিলো কেহরারের আত্মঘাতী গোল রীতিমতো ভেঙে দেয় মোনাকোর মনোবল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও স্কোরশিটে নিজের নাম তোলেন।
শেষ দিকে তেজে একটি সান্ত্বনার গোল পেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি রিয়ালের হাতে। ৮০ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের গোলে ৬-১ ব্যবধান নিশ্চিত হয়। আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচেই এমন জয় রিয়াল শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে।
এই জয়ে গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে, বার্নাব্যুর রাত মোনাকোর জন্য রয়ে গেল হতাশা আর আক্ষেপের গল্প হয়ে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২১জানুয়ারি২৬/টিএ
