
আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি রশিদ খান। মাঠের পারফরম্যান্সের মতোই দেশের প্রতি তার অবস্থানও সবসময় স্পষ্ট। এবার নিজের বইয়ে তিনি জানালেন এমন এক তথ্য, যা নতুন করে আলোচনায় এনেছে তার দেশপ্রেমের বিষয়টি।
রশিদ জানিয়েছেন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া এই দুই দেশ থেকেই তিনি নাগরিকত্ব নিয়ে তাদের হয়ে খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ, উন্নত পরিবেশ সবকিছুই ছিল সেই প্রস্তাবের অংশ। কিন্তু তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই তা প্রত্যাখ্যান করেন।
তার মতে, নিজের দেশের হয়ে খেলাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন, যদি আফগানিস্তানের হয়ে খেলতে না পারেন, তাহলে অন্য কোনো দেশের জার্সি গায়েও তুলবেন না।
এই ঘটনাটি ঘটে কয়েক বছর আগে, যখন তিনি ভারতে একটি জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় খেলছিলেন। সেই সময় এক কর্মকর্তা তাকে জানান, বোর্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তার সঙ্গে কথা বলতে চান। সাক্ষাতে তাকে বলা হয়, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি কঠিন, তাই তিনি চাইলে ভারতে স্থায়ীভাবে থাকতে পারেন। তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হবে, এখানেই থেকে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন।
প্রস্তাবটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হলেও খুব শান্তভাবে নিজের অবস্থান জানান রশিদ। তিনি ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, তিনি নিজের দেশ আফগানিস্তানের হয়েই খেলতে চান।
অস্ট্রেলিয়ার দিক থেকেও একই ধরনের প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই তার সিদ্ধান্ত ছিল একই দেশ ছেড়ে অন্য কারও হয়ে খেলবেন না।
এর আগে ২০১৮ সালে তার একটি ম্যাচের পরও একই ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। সে সময় এক ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন রশিদ। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অন্য দেশের নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবি ওঠে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তবে আফগানিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তখন স্পষ্ট করে জানান, রশিদ দেশের গর্ব, তাকে হারানোর প্রশ্নই আসে না। রশিদ সেই অবস্থানকে স্বাগত জানান এবং বলেন, দেশের হয়ে খেলাই তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
নিজের বইয়ে তিনি শুধু এই ঘটনাগুলোই নয়, নিজের সংগ্রামের গল্পও তুলে ধরেছেন। ছোটবেলায় কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বড় হওয়া, সুযোগ না পাওয়া, তারপর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রমাণ করা সবকিছুই এসেছে তার লেখায়। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ না পেলেও হাল ছাড়েননি তিনি। পরিশ্রম করে জায়গা করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।
এখন তিনি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার। বিশ্বের বিভিন্ন লিগে খেললেও নিজের দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কখনো সরে যাননি। তার এই অবস্থানই তাকে আলাদা করে তুলেছে।
রশিদের এই সিদ্ধান্ত আবারও মনে করিয়ে দেয়, তার কাছে ক্রিকেট শুধু ক্যারিয়ার নয়, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বও।
ক্রিফোস্পোর্টস/২০এপ্রিল২৬/টিএ




















