
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো হতাশার মধ্য দিয়ে। শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। এই হারের সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে রোনালদোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারও। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি পর্তুগালের এই তারকা। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর চোখে ছিল অশ্রু।
বিশ্বকাপের এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই দুই দল সতর্ক ফুটবল খেলেছে। মাঝমাঠে ছিল জমজমাট লড়াই, আর দুই দলই সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে স্পেন নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে। সেই গোল শোধ করতে না পারায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের, আর শেষ আটে জায়গা করে নেয় স্পেন।
শেষ বাঁশির পর পর্তুগালের খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল স্পষ্ট। কেউ মাঠেই বসে পড়েন, কেউ আবার মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। রোনালদো কিছুক্ষণ নিশ্চুপ ছিলেন। পরে ড্রেসিংরুমের দিকে যাওয়ার সময় তাঁকে চোখের জল মুছতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ফুটবলপ্রেমীদের আবেগাপ্লুত করে।
২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন রোনালদো। এরপর টানা কয়েকটি আসরে পর্তুগালের হয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও উয়েফা নেশনস লিগ জয়ের স্বাদ পেলেও বিশ্বকাপ শিরোপা তাঁর হাতে ওঠেনি।
বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও রোনালদোর অবদান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি পর্তুগালের ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখ ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দল অনেক সাফল্য পেয়েছে, অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচ খেলেছে। তবে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটি জয় দিয়ে শেষ করতে না পারার আক্ষেপ হয়তো তাঁর সঙ্গেই থেকে যাবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৭জুলাই২৬/টিএ





















