বিশ্বকাপে দুই কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচের একজনের যাত্রা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব। টরন্টোয় শেষ ষোলোর সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকল পর্তুগাল। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ২-১ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় রোনালদোর দল। আর বিশ্বকাপকে বিদায় বলতে হলো মদরিচকে।
শুরুর দিকে বলের দখল ছিল পর্তুগালের। রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও রাফায়েল লিয়াও বারবার আক্রমণ গড়লেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা। অন্যদিকে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা ক্রোয়েশিয়া বিরতির পরই এগিয়ে যায়। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ইয়োসিপ স্তানিশিচের বাড়ানো বল থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন ইভান পেরিসিচ।
গোল হজম করার পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় পর্তুগাল। ৬০ মিনিটে রোনালদো বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। তবে আট মিনিট পর আর হতাশ হতে হয়নি। প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের ফাউলের জন্য পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি তাঁর প্রথম গোল।
সমতায় ফেরার পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে বাঁ দিক থেকে রাফায়েল লিয়াওয়ের উঁচু করে বাড়ানো বল দারুণ এক হেডে জালে পাঠান গনসালো রামোস। ৯৪ মিনিটের সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
তবে ম্যাচের উত্তেজনা তখনও শেষ হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়া বল জালে পাঠিয়ে সমতায় ফেরার আনন্দে মেতে ওঠে। কিন্তু সহকারী রেফারির সংকেতে দেখা যায়, আক্রমণের সময় একজন খেলোয়াড় অফসাইডে ছিলেন। পরে ভিডিও দেখে রেফারিও গোলটি বাতিল করেন। এতে স্বস্তি ফিরে আসে পর্তুগাল শিবিরে।
শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন পর্তুগালের ফুটবলাররা। মাঠে গিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ও বন্ধু মদরিচকে আলিঙ্গন করেন রোনালদো। সেই মুহূর্তেই নিশ্চিত হয়ে যায়, রোনালদোর বিশ্বকাপের স্বপ্ন বেঁচে থাকলেও মদরিচের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে। এখন শেষ ষোলোর পরের লড়াইয়ে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ স্পেন।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩জুলাই২৬/টিএ



