
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন আবারও তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, আইপিএলে খেলার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁকে ইংল্যান্ড দল থেকে ছিটকে দেয়। বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, অল্প বয়সেই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানা হয়।
সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় পিটারসেন সেই সময়ের ঘটনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, তখন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের আইপিএলে খেলতে দিতে চাইত না। কিন্তু তিনি আইপিএলে খেলতে দৃঢ় অবস্থান নেন। বোর্ডের নির্দেশ মানতে রাজি না হওয়ায় ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে।
পিটারসেনের মতে, বিষয়টি শুধু মতবিরোধে সীমাবদ্ধ ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বড় ধরনের দ্বন্দ্বে পরিণত হয়। বোর্ডের অনেক কর্মকর্তা তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নেন। এর প্রভাব পড়ে দলে তাঁর অবস্থানের ওপরও। শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধের ফলেই জাতীয় দল থেকে বাদ পড়তে হয় তাঁকে।
২০১৪ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন পিটারসেন। তিনি মনে করেন, তখনো তাঁর ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় বাকি ছিল। তাঁর ভাষায়, তিনি অন্তত আরও ৪০ থেকে ৫০টি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারতেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর রানও অনেক বেশি হতে পারত।
২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর দ্রুতই ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন পিটারসেন। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ১০৪ ম্যাচে ৮১৮১ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ২৩টি শতক। একদিনের ক্রিকেটে ১৩৬ ম্যাচে ৪৪৪০ রান এবং সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ৩৭ ম্যাচে ১১৭৬ রান করেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি।
আইপিএলেও পিটারসেন ছিলেন সফল। পাঁচটি ভিন্ন দলে খেলেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। তবে তাঁর মতে, সেই সময় নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্যই তাঁকে মূল্য দিতে হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে।
তবে নিজের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ নেই পিটারসেনের। বরং তিনি মনে করেন, তাঁর সেই অবস্থানের কারণেই আজ ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সহজেই খেলতে পারছেন। তিনি বলেন, এখনকার খেলোয়াড়রা যে সুযোগ পাচ্ছেন, তার পেছনে আগের প্রজন্মের কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত কাজ করেছে।
পিটারসেন আরও জানান, ইংল্যান্ডের বর্তমান তারকা জস বাটলার এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাটলারের মতে, পিটারসেনদের মতো ক্রিকেটারদের অবস্থানের কারণেই আজকের খেলোয়াড়রা স্বাধীনভাবে বিভিন্ন লিগে অংশ নিতে পারছেন।
সব মিলিয়ে, পিটারসেনের বিশ্বাস তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার স্বাভাবিকভাবে শেষ হয়নি। আইপিএল নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বই তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিয়েছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৭এপ্রিল২৬/টিএ





















