Connect with us
ক্রিকেট

রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৯ বছর পর পিএসএল চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি

পিএসএল-২০২৬ চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনালে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা নিজের সামর্থ্যের দারুণ প্রমাণ দিয়েছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে পেশোয়ার জালমির জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। হায়দরাবাদ কিংসকে ১২৯ রানে আটকে দেওয়ার পথে নাহিদ ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। পরে সেই লক্ষ্য ২৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় পেশোয়ার। এর মধ্য দিয়ে ৯ বছর পর আবারও পিএসএল ট্রফি নিজেদের করে নেয় দলটি।

ফাইনালে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ দ্রুত রান তুলতে থাকে। প্রথম ৫ ওভারে ২ উইকেট হারালেও দলটির সংগ্রহ ছিল ৫৬ রান। তখনই আক্রমণে আসেন নাহিদ রানা। নিজের প্রথম ওভারে কিছু রান দিলেও পরের ওভার থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন বাংলাদেশের এই পেসার।

নাহিদের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই বড় ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ। অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল শর্ট বল খেলতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে বিদায় নেন। এর কিছু পরেই কুশল পেরেরা রানআউট হলে হায়দরাবাদ আরও বিপদে পড়ে। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি।



নাহিদ তার পরের স্পেলেও ছিলেন সমান কার্যকর। চতুর্দশ ওভারে দুর্দান্ত গতিতে ব্যাটারদের চাপে রেখে মেডেন ওভার করেন তিনি। সেই ওভারের পঞ্চম বলে হুনাইন শাহকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। তার গতি, নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিক লাইন-লেন্থের সামনে হায়দরাবাদের ব্যাটাররা বড় জুটি গড়তে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১২৯ রানেই অলআউট হয় দলটি।

পেশোয়ারের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অ্যারন হার্ডি। ২৭ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। পরে ব্যাট হাতেও দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন এই অলরাউন্ডার।

১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে পেশোয়ার। মাত্র ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তবে এরপর অ্যারন হার্ডি ও আবদুল সামাদ দলের হাল ধরেন। দুজনের ৮৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে ম্যাচ পুরোপুরি পেশোয়ারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

আবদুল সামাদ ৩৪ বলে ৪৮ রান করে আউট হলেও হার্ডি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৯ বলে ৫৬ রান করে। তার দায়িত্বশীল ইনিংসে সহজ জয় নিশ্চিত হয় পেশোয়ারের।

ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে নাহিদ রানার নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিং শুধু দলকে সুবিধা এনে দেয়নি, বরং প্রমাণ করেছে কেন তাকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে এতটা আস্থা রেখেছিল পেশোয়ার জালমি। নিজের গতি ও কার্যকারিতায় প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার। ৯ বছর পর পিএসএল ট্রফি পুনরুদ্ধারের রাতে তাই নাহিদ রানাও ছিলেন পেশোয়ারের সাফল্যের অন্যতম বড় নায়ক।

ক্রিফোস্পোর্টস/৪মে২৬/টিএ

Crifosports announcement

Focus

More in ক্রিকেট