টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর পাঁচদিন বাকি। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরে পাকিস্তান খেলবে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিশ্বকাপে না খেললে বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টায় পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সেখানেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এর আগে অনিবার্য কারণে বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করেছিল পিসিবি, যা অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়েছে।
পিসিবির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যদি শেষ পর্যন্ত দলকে বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়, তবে লাহোরে চার দল নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য দলগুলোর মধ্যে থাকবে দ্য পাকিস্তান, পাকিস্তান শাহিন্স এবং অনূর্ধ্ব-১৮ দল। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ভাগ করে চারটি স্কোয়াড গঠন করে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হতে পারে।
বিশ্বকাপ ঘিরে এই অনিশ্চয়তার সূত্রপাত হয় আইপিএলে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে বিতর্কের পর। সেই ঘটনায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ সামনে আসে এবং তারা বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। আইসিসি সেই প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করে। এরপর বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দেয় পাকিস্তানও।
২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিল পিসিবি। তবে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা থাকলেও, আজই চূড়ান্ত অবস্থান জানানো হতে পারে বলে জানিয়েছে জিও নিউজ।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে পাকিস্তানের এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সবার নজর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত পিসিবি কোন সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই সবার নজর। স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাড়ালে বিশ্বকাপের আয়োজন ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/১ফেব্রুয়ারি২৬/টিএ
