Connect with us
ক্রিকেট

সাবেক আইসিসি চেয়ারম্যান

সরকারি সিদ্ধান্ত মানলেও পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়া যাবে না

Pakistan t-20 team
পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ছবি: সংগৃহীত

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিলেন সাবেক আইসিসি চেয়ারম্যান এহসান মানি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের নির্দেশ মেনে চললে কোনো সদস্য বোর্ডকে শাস্তি দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।

গতকাল পাকিস্তান টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আগা স্পষ্ট করেন, সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড়দের নয়। সরকারের নির্দেশই চূড়ান্ত। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে দল যাবে, তবে বোর্ড ও সরকারের নির্দেশ অনুযায়ীই সব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। অর্থাৎ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে না খেলার অবস্থানও সেই নীতির অংশ। তার মতে সরকার ও বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দিবে আমরা সেটাই মেনে চলবো।

এ নিয়ে আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর জাতীয় নীতিনির্ধারণে সরকারের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের স্বার্থ রক্ষায় গ্রহণযোগ্য সমাধানের আশা প্রকাশ করেছে তারা।



এই প্রেক্ষাপটে ভারতের স্পোর্টস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এহসান মানি বলেন, সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর যুক্তি, ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতও সরকারি অবস্থানের কারণ দেখিয়ে পাকিস্তানে খেলতে যায়নি। সে ক্ষেত্রে এক দেশের জন্য এক নিয়ম, আরেক দেশের জন্য ভিন্ন নিয়ম হতে পারে না।

মানির দাবি, আইসিসি আগেও এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ইস্যুতে শ্রীলঙ্কায় খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়ে সফরে যায়নি, নিউজিল্যান্ডও কেনিয়ায় খেলেনি। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েই তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তাঁর মতে, যখন বোর্ড প্রধান নিজেই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, তখন সরকার ও বোর্ডের অবস্থান আলাদা করে দেখা কঠিন। ফলে পুরো বিষয়টি কেবল ক্রীড়া প্রশাসনের প্রশ্ন নয়, রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গেও জড়িত।

এখন নজর আইসিসির আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের দিকে। কারণ একদিকে টুর্নামেন্টের নিয়ম ও সম্প্রচারস্বত্ব, অন্যদিকে সদস্য দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই সংস্থাটির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রিফোস্পোর্টস/২ফেব্রুয়ারি২৬/টিএ

Crifosports announcement

Focus

More in ক্রিকেট