লাহোরে সিরিজের শুরুটা পাকিস্তানের জন্য ছিল স্বস্তির, আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশ্বকাপের আগে নতুন দুশ্চিন্তা। তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ২২ রানের জয় তুলে নিয়ে সাত বছরের ইতিহাসের খরা কাটিয়েছে স্বাগতিকরা। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম অজিদের বিপক্ষে জিতল পাকিস্তান।
১৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য দাপুটেই ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ট্রাভিস হেড প্রথম ৯ বলেই হাঁকান দুই ছক্কা ও দুই চার। ২.২ ওভারে স্কোরবোর্ডে ২৭ রান তুলে দুর্দান্ত শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেই ঝোড়ো ব্যাটিং বেশিক্ষণ থাকেনি।
পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণ ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় মাঝ ওভারে। সাইম আইয়ুব ফেরান দুই ওপেনার ম্যাথু শর্ট ও হেডকে। হেড ১৩ বলে ২৩ করে বাবর আজমের হাতে ধরা পড়েন, শর্ট বোল্ড হন ৫ রান করে। এরপর আবরার আহমেদ ও শাদাব খানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তোলার গতি কমে যায় অস্ট্রেলিয়ার।
বিশেষ করে আবরার ছিলেন সবচেয়ে কার্যকরী। চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। সাইম নেন ২৯ রানে নেনে ২ উইকেট। মোহাম্মদ নাওয়াজও পান একটি উইকেট। পেসার শাহিন আফ্রিদি ও সালমান মির্জা উইকেটশূন্য থাকলেও ইকোনমিক্যাল বোলিং করেছেন।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৯৬ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিকে জ্যাভিয়ার বার্টলেট ২৫ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস খেললেও ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছু করা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৬।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই সাহিবজাদা ফারহানকে হারায় পাকিস্তান। তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান সাইম আইয়ুব ও সালমান আগা। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ৭৪ রানের জুটি দলকে গতি এনে দেয়। সাইম ২২ বলে ৪০ রান করেন, যেখানে ছিল ২টি ছক্কা ও ৩টি চার। অধিনায়ক সালমানের ব্যাট থেকে আসে ২৭ বলে ৩৯ রান।
মাঝে বাবর আজম ২৪ ও ফখর জামান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যাডাম জাম্পা ৪ উইকেট নেন ২৪ রানে, বার্টলেট পান ২টি উইকেট।
ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন সাইম আইয়ুব। সিরিজের শুরুতেই জয় পাওয়ায় পাকিস্তান এখন এগিয়ে ১-০ ব্যবধানে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘদিনের হতাশার রেকর্ড ভাঙলো।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৯জানুয়ারি২৬/টিএ
