
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার দেওয়া শান্তি পুরস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ডিসেম্বরে বিশ্বে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে শুরু থেকেই সিদ্ধান্তটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এবার সেই পুরস্কার বাতিলের আনুষ্ঠানিক দাবি তুলেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন।
নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, ফুটবলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক বিষয়ে এমন পুরস্কার দেওয়া ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তার মতে, শান্তি পুরস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতির জন্য স্বাধীন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এবং ফিফার এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতিমালার বিরোধী।
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ফিফার অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। নরওয়ে চায়, ফিফা ভবিষ্যতে এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুক।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে সরব হয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এই পুরস্কারের জন্য তার চেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি নেই।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেছেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি শক্ত অবস্থানের মাধ্যমে বিশ্বে একাধিক সংঘাত কমাতে সহায়তা করেছে। সমালোচকদের বক্তব্যকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও উল্লেখ করেছে।
ফিফার এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক পর্যায়েই নয়, খেলোয়াড় ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার জ্যাকসন আরভিন বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত ফিফার মানবাধিকার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, ফুটবলকে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা, এই সিদ্ধান্ত তা দুর্বল করে দেয়।
সমালোচকদের একাংশের দাবি, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষতার বদলে রাজনৈতিক প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। সেই প্রেক্ষাপটে ফিফার এমন সিদ্ধান্ত আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, বিশ্বকাপের বড় মঞ্চকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার এখন ক্রীড়াবিশ্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। নরওয়ের আপত্তি, খেলোয়াড়দের সমালোচনা এবং হোয়াইট হাউসের পাল্টা অবস্থান মিলিয়ে বিষয়টি ফিফার জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৯এপ্রিল২৬/টিএ





















