
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো। সব আলোচনা, সমালোচনা আর অনিশ্চয়তা পেরিয়ে আবারও ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরলেন নেইমার। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ঘোষিত ব্রাজিলের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। আর ছেলের এমন প্রত্যাবর্তনের দিনে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন নেইমারের বাবা।
সোমবার গভীর রাতে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দল ঘোষণার সময় সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা ছিল একটি নাম ঘিরে, সেটি নেইমার। শেষ পর্যন্ত সেই নাম উচ্চারণ হতেই আনন্দে ফেটে পড়েন উপস্থিত দর্শকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস।
দীর্ঘ আড়াই বছর জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন নেইমার। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ভয়াবহ হাঁটুর চোটে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। সেই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। পরে জানা যায়, বাঁ হাঁটুর এসিএল চোটে পড়েছেন তিনি। এরপর অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে ব্রাজিলের এই তারকাকে।
চোটের সময়টা সহজ ছিল না নেইমারের জন্য। মাঠের বাইরের সমালোচনা, ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন, জাতীয় দলে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সবকিছুর মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে তাকে। তবে কঠিন সময়েও হাল ছাড়েননি তিনি। ধীরে ধীরে মাঠে ফেরেন, নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। সেই লড়াইয়ের ফলই মিলল এবার।
ছেলের দলে ফেরার খবরের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নেইমারের বাবা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি পরিবারের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, “ইনজুরির পর থেকে আমরা অনেক কষ্টের সময় পার করেছি। নীরবে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। অনেক কথা শুনেছি, অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু আজ সেসব মনে করতে চাই না। আজ আনন্দের দিন।”
তিনি আরও লেখেন, “তুমি যেখানেই গেছ, মানুষ তোমাকে ভালোবেসেছে। ছোট ছোট শিশুরা তোমার নাম ধরে চিৎকার করেছে। এই জায়গায় ফিরতে তুমি কতটা পরিশ্রম করেছ, সেটা আমরা খুব ভালো করেই জানি। এই যাত্রায় কষ্ট ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু বিশ্বাসও ছিল। ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করেছেন। আরেকটি বিশ্বকাপে তোমার পাশে থাকব।”
ব্রাজিলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ৭৯টি গোল করেছেন নেইমার, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই তার ফেরাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরাও। তাদের মতে, নেইমারকে দলে পাওয়ায় আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী হয়েছে ব্রাজিল।
নতুন কোচ আনচেলত্তির অধীনে এই প্রথম জাতীয় দলে ডাক পেলেন নেইমার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে দল গড়ার কথা বলছিলেন এই ইতালিয়ান কোচ। সেই পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবেই ফিরলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিচিত এই ফুটবলার।
এখন ব্রাজিল সমর্থকদের অপেক্ষা একটাই, দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষা শেষ করে বিশ্বকাপ শিরোপা আবার ঘরে তুলতে পারে কি না সেলেসাওরা। আর সেই স্বপ্ন পূরণে নেইমারের দিকে বাড়তি নজর থাকবেই।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৯মে২৬/টিএ
























