বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর থেকেই ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেইমার। তবে তখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি। তাই অনেক সমর্থকের আশা ছিল, হয়তো আবারও একদিন হলুদ জার্সিতে দেখা যাবে তাকে। এবার সেই সম্ভাবনাও শেষ করে দিলেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
সান্তোসের হয়ে দেশের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাতীয় দল নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন নেইমার। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জাতীয় দলে তার সময় শেষ। ব্রাজিলের হয়ে যা করার ছিল, তিনি করেছেন। এখন আর জাতীয় দলে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই।
নেইমার বলেন, দেশের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ব্রাজিলের জার্সির জন্য তিনি সবসময় লড়াই করেছেন এবং নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন। সেই পথচলা নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। বরং জাতীয় দলের হয়ে কাটানো সময় নিয়েই তিনি গর্বিত।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দেওয়া তার আবেগঘন মন্তব্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এখানেই তার শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। কারণ যে মাঠে ব্রাজিলের হয়ে তার অভিষেক হয়েছিল, সেই মাঠেই শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তিনি।
বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী নেইমার ক্লাব ফুটবলে সান্তোসের হয়ে খেলছেন। সর্বশেষ ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে দলের ৪-২ গোলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। তার পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্যও করেছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম।
ব্রাজিলের হয়ে ১৩০টি ম্যাচ খেলে ৮০টি গোল করেছেন নেইমার। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষে রয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ গোলটি আসে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে, পেনাল্টি থেকে।
জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেও ক্লাব ফুটবলে এখনও খেলা চালিয়ে যাবেন নেইমার। তবে তার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা একটি সফল অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৯জুলাই২৬/টিএ



