Connect with us
ফুটবল

বিশ্বকাপে আসছে নতুন নিয়ম

শুধু গোল করা বা গোল ঠেকানোই নয়, ফুটবলে কখনো কখনো পার্থক্য গড়ে দেয় রেফারির সিদ্ধান্তও। এবার বিশ্বকাপের আগে সেই রেফারিং ব্যবস্থায় আনা হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ভিএআরের ক্ষমতা ও খেলোয়াড়দের আচরণ বেশ কিছু বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ফিফা।

আসন্ন বিশ্বকাপে ভিএআরের ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে ফিফা। এখন থেকে কর্নার বা ফ্রি-কিকের ঠিক আগে বক্সে হওয়া ফাউলের কারণে গোল বাতিল করার সুপারিশ করতে পারবে ভিডিও রেফারি। ভুলবশত দেওয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ঘটনাও পর্যালোচনা করতে পারবে তারা।

একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বললে লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। চোট বা চিকিৎসার অজুহাতে মাঠের বাইরে গিয়ে দলীয় আলোচনা করার প্রবণতাও বন্ধ করতে চায় ফিফা।



এসব বিষয় ফুটবলের আইন–প্রণয়ন প্রতিষ্ঠান আইএফএবির (ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড) সভায় অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আইএফএবি বলছে, কর্নার কিক বা ফ্রি-কিক নেওয়ার ঠিক আগে যদি আক্রমণকারী দলের কোনো খেলোয়াড় বক্সে ফাউল বা কোনো অপরাধ করেন এবং এর সরাসরি প্রভাবে যদি কোনো গোল বা পেনাল্টি হয়, তবে ভিএআর তা যাচাই করতে পারবে।

এমন ঘটনা ঘটলে ভিএআর প্রধান রেফারিকে মাঠের স্ক্রিনে এসে ভিডিওটি দেখার (অন-ফিল্ড রিভিউ) অনুরোধ জানাবে। রেফারি যদি ভিডিও দেখে নিশ্চিত হন যে বল সচল হওয়ার আগেই ফাউল বা অপরাধটি হয়েছিল, তবে তিনি দোষী খেলোয়াড়কে কার্ড বা যথাযথ শাস্তি দেবেন। এরপর আগের গোল বা পেনাল্টি বাতিল করে সেই কর্নার কিক বা ফ্রি-কিকটি আবার নতুন করে নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।

এ বিষয়ে ফিফা রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা মার্চে ইংল্যান্ড–উরুগুয়ে ম্যাচের একটি গোলকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কলিনা বলেন, সেদিন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার বেন হোয়াইটের গোলটি বৈধ হওয়া উচিত ছিল না। কারণ, কর্নার কিক নেওয়ার ঠিক আগে অ্যাডাম হোয়ার্টন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার হোসে মারিয়া গিমেজকে স্পষ্ট বাধা দিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ডের ঘটনায়ও সীমিত পরিসরে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। বিশেষ করে ভুল খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হলে সেটি পর্যালোচনা করা যাবে। ভিএআর গোল কিক হওয়ার কথা থাকলেও ভুল করে কর্নার কিক দেওয়া হয়েছে কি না, তা–ও দেখবে।

ফিফা আরও জানিয়েছে, খেলোয়াড়েরা হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বললে রেফারিরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। যদি সেটি উত্তেজনাপূর্ণ বা গোপন যোগাযোগ বলে মনে হয়, তাহলে লাল কার্ডও দেখানো হতে পারে। তবে স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে কোনো শাস্তি হবে না।

এ ছাড়া খেলোয়াড়দের চোটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে খেলার গতি নষ্ট করা এবং চিকিৎসা চলাকালে মাঠের মধ্যে দলীয় বৈঠক করার প্রবণতা বন্ধ করতে চায় ফিফা। অনেক সময় দেখা যায় গোলকিপার মাঠে চিকিৎসা নিচ্ছেন আর তাঁদের খেলোয়াড়ের টাচলাইনে গিয়ে কোচের নির্দেশনা শুনছেন, যা ট্যাকটিক্যাল টাইমআউট হিসেবে পরিচিত।

বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ৪৮টি দলের প্রধান কোচদের নিয়ে আয়োজিত একটি কর্মশালায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল, তবে রেফারিদের হাতে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা নেই। কলিনা বলেন, ‘গোলকিপার আহত হতে পারেন, কিন্তু সেই সুযোগে অন্য খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে কোচের সঙ্গে দলীয় বৈঠক করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

ক্রিফোস্পোর্টস/১জুন২৬/এনডি

Crifosports announcement

Focus

More in ফুটবল