Connect with us
ক্রিকেট

বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন সংকট: পাকিস্তানের পর এবার বাংলাদেশ-ভারত

BAN PAK IND
পাকিস্তানের পর এবার বাংলাদেশের সাথেও বৈরীতা করছে ভারত।

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দেখা হয় না ভারত ও পাকিস্তানের। আইসিসি ও এসিসির টুর্নামেন্ট ছাড়া তাদের কোনো সাক্ষাৎই হয় না। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে দেখা হলেও দুদেশের টেস্ট ম্যাচ হয় না দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে। এবার যেন সে পথেই হাঁটছে ভারত-বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন সংকট তৈরি করেছে ভারত। এবার তাদের আপত্তি বাংলাদেশকে নিয়ে।

ভারত-পাকিস্তানের মতো, বাংলাদেশ-ভারত সংকটও মূলত রাজনৈতিক। কিন্তু ভারত সেই রাজনীতির উত্তাপটা নিয়ে গেছে খেলার মাঠ অবধি। যার প্রভাব দুদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও। ভারত-পাকিস্তান সংকটের সুরাহা করতে পারেনি কেউই। নতুন করে বাংলাদেশকে নিয়েও বৈরীতার খাতা খুলেছে নরেন্দ্র মোদির দেশ।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাকে সংখ্যালঘু নির্যাতন দাবি করে ভারতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারই জেরেই মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে না নিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশনা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এরই প্রতিক্রিয়ায় এ বছরের শেষের দিকে ভারতের নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর স্থগিত রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশ কেবল বৈশ্বিক আসরে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



Babar Kohli

ম্যাচের স্বার্থে মাঠে নামলেও হ্যান্ডশেক করাও বন্ধ রয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গত শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে, তারা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ভারতকে আতিথেয়তা দেবে। তবে বাংলাদেশ সিরিজটি হঠাৎই স্থগিত রাখতে সরকারের অনুমতি চেয়েছে ভারতীয় বোর্ড। বিসিসিআই যথাসময়ে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের কথা বিসিবিকে জানাবে।

এখানেই থেমে থাকেনি উত্তেজনা। পাল্টা জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাবে না টাইগাররা। পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের ম্যাচগুলোও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আয়োজনে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। এর প্রেক্ষিতে সবুজ সংকেত দিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। তবে ভারত এবার চাইছে বাংলাদেশকে তাদের দেশে নিতে। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের নিরাপদ অনুভব করছে না।

বিসিসিআই-এর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা গত বছরও বাংলাদেশে যাইনি। বিসিবি তাদের আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে ঠিকই, তবে এই সিরিজ হওয়া নিয়ে সন্দেহ আছে, কারণ অন্য কোনো দেশে খেলতে গেলে আমাদের ভারত সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বিসিবিকে যোগাযোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে আমি ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিসিকে ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘বোর্ডকে অবশ্যই স্পষ্ট করতে হবে যে, যদি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ভারতে খেলতে না পারেন, তবে বাংলাদেশ জাতীয় দল বিশ্বকাপে খেলার জন্য ভারত ভ্রমণে নিরাপদ বোধ করতে পারে না। আমি বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাতে বলেছি যাতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।’

BAN vs IND

ক্রিকেট মাঠে ভারত-বাংলাদেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ হয়তো আর দেখা যাবে না।

তবে বিসিসিআই-এর একটি সূত্র দাবি করেছে যে, টুর্নামেন্ট শুরু হতে মাত্র এক মাস বাকি, এখন এই পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। সূত্রটি জানায়, ‘কারো খেয়ালখুশিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ সরানো যায় না। এটি একটি লজিস্টিক্যাল দুঃস্বপ্ন। প্রতিপক্ষ দলগুলোর কথা ভাবুন, তাদের বিমান টিকিট এবং হোটেল বুক করা হয়ে গেছে। এছাড়া প্রতিদিন তিনটি করে ম্যাচ রয়েছে যার একটি শ্রীলঙ্কায়। ব্রডকাস্ট ক্রু-দের বিষয় রয়েছে। তাই এটি বলা যতটা সহজ, করা ততটা নয়।’

এদিকে প্রথমে তিনটি বিষয়ে আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত একটি দাবি জানিয়েছে বিসিবি। আজ (রোববার) দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালক মিলে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে। যেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচেই খেলবে না বাংলাদেশ।

আইসিসিকে পাঠানো ই-মেইলে বিসিবি জানিয়েছে, ‘নিরাপত্তার শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠানো সম্ভব নয়।’ যে কারণে ভেন্যু সরিয়ে নিতেও আবেদন করেছে বোর্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজক শ্রীলঙ্কা। এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাদের সব ম্যাচই লঙ্কান ভেন্যুতে নির্ধারিত হয়েছে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলবে। যেখানে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশ খেলবে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং নেপাল ও ইতালির সঙ্গে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী– আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের ভেন্যু কলকাতার ইডেন গার্ডেন। একই ভেন্যুতে পরের দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ও ইতালি। মুম্বাইয়ে নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে গ্রুপপর্ব।

তবে আইসিসির সবুজ সংকেতের পর হয়তো ভারতের মাটিতে খেলবে না বাংলাদেশ। পাকিস্তানের মতো টাইগারদের ম্যাচও আয়োজন হতে পারে শ্রীলঙ্কায়। কেননা ম্যাচের সূচি কিংবা লজিস্টিক ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার চেয়ে বড় নয়।

ক্রিফোস্পোর্টস/৪জানুয়ারি২৬/এজে

Crifosports announcement
Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Focus

More in ক্রিকেট