
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হাবিবুর রহমান। মোহামেডানের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতক করে বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। একই সঙ্গে জাতীয় দলের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার ওপর চড়াও হয়ে নিজের ইনিংসকে আরও স্মরণীয় করে রাখেন তিনি।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় হাবিবুরকে। মোহামেডানের বোলারদের কোনো সুযোগই দেননি তিনি। বিশেষ করে জাতীয় দলের দুই তারকা পেসার তাসকিন ও নাহিদকে লক্ষ্য করেই যেন নিজের আক্রমণ সাজিয়েছিলেন এই ব্যাটার।
ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদের এক ওভারে দুই চার ও দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ২৫ রান আদায় করেন হাবিবুর। সেই ওভার থেকেই তাঁর ঝড়ো ব্যাটিংয়ের আভাস পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে হয় নাহিদ রানাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত কয়েক মাসে নিজের গতি ও আগ্রাসী বোলিং দিয়ে আলোচনায় থাকা এই পেসার এদিন প্রথমবারের মতো চলতি মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে নেমেছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রথম ওভারটি দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে।
নাহিদের ওভারের প্রথম বলেই অতিরিক্ত কাভার অঞ্চলের ওপর দিয়ে চার মারেন হাবিবুর। পরের বলে আসে ছক্কা। এরপর আরও দুটি বল সীমানার বাইরে পাঠান তিনি। শেষ বলেও চার আদায় করেন। সব মিলিয়ে নাহিদের ওই এক ওভার থেকেই আসে ২৬ রান। মাঠে উপস্থিত দর্শকেরা তখন হাবিবুরের ব্যাটিং উপভোগে মগ্ন।
অর্ধশতকের মাইলফলকও তিনি স্পর্শ করেন দারুণ নাটকীয়ভাবে। তাইজুল ইসলামের বলে খোঁচা মেরে বল পাঠান স্লিপে থাকা ফিল্ডার ও উইকেটরক্ষকের মাঝ দিয়ে। বল বাউন্ডারিতে পৌঁছাতেই মাত্র ১৫ বলে পূর্ণ হয় তাঁর অর্ধশতক। এর মাধ্যমে তিনি গত মৌসুমে পারভেজ হোসেনের গড়া দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ডে ভাগ বসান। এর আগে ২০২৫ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৫ বলে অর্ধশতক করেছিলেন পারভেজ।
এর আগে এই রেকর্ডটি দীর্ঘ সময় ছিল ফরহাদ রেজার দখলে। ২০১৯ সালে ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ১৮ বলে অর্ধশতক করেছিলেন তিনি। ছয় বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙেছিলেন পারভেজ, আর এবার তাঁর পাশে নাম লেখালেন হাবিবুর।
তবে রেকর্ড গড়ার দিনে শতকের দিকে এগোতে পারেননি এই ব্যাটার। ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়ে গেলেও ২৭ বলে ৫৯ রান করে আউট হন তিনি। তাইবুর রহমানের বলে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়ার আগে তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। অর্থাৎ ৫৯ রানের মধ্যে ৫৪ রানই আসে চার-ছক্কা থেকে।
হাবিবুরের জন্য দ্রুত রান করা অবশ্য নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম শতকের রেকর্ডও তাঁর দখলে রয়েছে। বিসিএল একদিনের ক্রিকেটে উত্তরাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে মাত্র ৪৯ বলে শতক করেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ড এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে।
মোহামেডানের বিপক্ষে এদিনের ইনিংসটি হয়তো শতকে রূপ নেয়নি, কিন্তু মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতক এবং জাতীয় দলের দুই পেসারকে আক্রমণ করে খেলা এই ইনিংস দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো এক প্রদর্শনী হয়ে থাকবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২জুন২৬/টিএ





















