রংপুর রাইডার্সকে শুরু থেকে চাপে রেখেছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। লক্ষ্য খুব বড় ছিল না, রান তাড়ায় শুরুটাও করেছিল দুর্দান্ত। তবু ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত নিজেদের করে নিতে পারল না তারা। শেষ ওভারে ১০ রান দরকার ছিল ঢাকার, কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের অসাধারণ ডেথ বোলিংয়ের সামনে হার মানলো সাব্বির-শামীম-মিথুনরা। শেষ পর্যন্ত ৫ রানের জয় তুলে নেয় রংপুর।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রংপুর রাইডার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে তোলে ১৫৫ রান। শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। নতুন উদ্বোধনী জুটি লিটন দাস ও কাইল মেয়ার্স কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। মেয়ার্স ১১ বলে ১১ রান করে আউট হন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। লিটনও ফিরেছেন দ্রুত, ৬ বলে ৬ রান করে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি। তিন নম্বরে নামা তাওহিদ হৃদয় প্রথম বলেই আউট হয়ে ফেরায় ৩০ রানেই তিন উইকেট হারায় রংপুর।
এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর দলের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ডেভিড মালান। চতুর্থ উইকেটে দুজনে গড়ে তোলেন ৫৪ বলে ৭৪ রানের জুটি। মালান করেন ৩৩ বলে ৩৩ রান, আর মাহমুদউল্লাহ খেলেন ৪১ বলে ৫১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। শেষ দিকে খুশদিল শাহ ২১ বলে অপরাজিত ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন।
জবাবে ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ঢাকা ক্যাপিটালসের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও আবদুল্লাহ আল মামুন ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। ৩১ রান করে গুরবাজ ফিরলেও মামুন থিতু হয়েও বেশি দূর যেতে পারেননি, ২০ রান করে আউট হন তিনিও।
এরপর মোহাম্মদ মিঠুন ও সাইফ হাসান দলকে জয়ের পথে রাখেন। তবে এই জুটিতেই গতি কমে যায়। এক পাশে মিঠুন সাবলীল ব্যাটিং করলেও অন্য পাশে সাইফ ধীরগতিতে খেলেন। ২৪ বলে মাত্র ১৫ রান করেন তিনি। ফলে চাপ বাড়তে থাকে।
শেষদিকে শামীম হোসেন ও সাব্বির রহমান চেষ্টা করেন ম্যাচ ঘোরানোর। মিঠুন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫৬ রানে, সাব্বির করেন ৮ বলে অপরাজিত ১২। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। কিন্তু মুস্তাফিজের দুর্দান্ত লাইন-লেন্থে প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি ঢাকা। ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ২ নাম্বারে উঠে এসেছে রংপুর। অন্যদিকে টেবিলের ৫ নাম্বারে অবস্থান করছে ঢাকা।
ক্রিফোস্পোর্টস/৪জানুয়ারি২৬/টিএ
