
খেলার মান খুব বেশি উঁচুতে না উঠলেও উত্তেজনার কোনো ঘাটতি ছিল না। ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের শেষ ষোলোর ম্যাচে বারবার দেখা গেছে কঠিন ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি ও খেলোয়াড়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফরাসিদের কাছে। তবে প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণভাগের কারণে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের আক্রমণ বারবার থেমে যায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে। প্রথমার্ধে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি। বিরতির আগে আন্দ্রেস কুবাসের ট্যাকলে এমবাপ্পে পড়ে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোল পাচ্ছিল না তারা। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা দেজিরে দুয়েকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ৭০ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।
এটি এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পের সপ্তম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯-এ। টানা তিনটি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।
গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে খুব বেশি সমস্যায় ফেলতে পারেনি। বরং ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানে হার থেকে বাঁচান।
ম্যাচের শেষ দিকে এবং শেষ বাঁশির পরও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমকে।
শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়। ১-০ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।
ক্রিফোস্পোর্টস/৫জুলাই২৬/টিএ




















