বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের আশার প্রতিদান দিচ্ছে মাহমুদউল্লাহ। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় তার দিকে এগিয়ে এসে অভিবাদন জানান আসিফ আলি। নিজেও একজন ফিনিশার হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান জানেন, এই ভূমিকায় কাজটা কতটা কঠিন। শেষ মুহূর্তে চাপ সামলে ম্যাচ বের করে আনার মূল্যটা তাই ভালোই বুঝেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে সোমবার ম্যাচটা সহজ ছিল না রংপুরের জন্য। শেষ চার ওভারে দরকার ছিল ৪১ রান। চাপের সেই সময়ে মাহমুদউল্লাহ ও খুশদিল শাহ দায়িত্ব নেন। খুশদিল ১২ বলে ২২ রান করে ফিরে গেলেও মাহমুদউল্লাহ ছিলেন শেষ পর্যন্ত। ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রান করে দলকে ৭ বল হাতে রেখেই জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
এই ম্যাচের আগেও ধারাবাহিক ছিলেন তিনি। আগের দিন ফিফটি করে ম্যাচসেরা, তার আগের ম্যাচে ১৬ বলে ৩৪ রান করে জয় এনে দিয়েছিলেন দলকে। টানা এমন পারফরম্যান্সে রংপুরের মাঝের ও শেষের ওভারগুলোতে ভরসার নাম এখন মাহমুদউল্লাহই।
চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহর গড় ৫৮, স্ট্রাইক রেট ১৪৩-এর বেশি। রংপুরের টিম ডিরেক্টর মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করছেন, ব্যাট হাতে এটাই তার সাম্প্রতিক সময়ের সেরা পারফরম্যান্স।
আশরাফুল বলেন, “গত ৩–৪ বছরে এত ভালো ব্যাটিং ও করেনি। ওর ক্যারিয়ারের সেরা সময় ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৮। কিন্তু এখন যে ব্যাটিং করছে, সেটাও অসাধারণ। এই সময়টায় ওকে দলে পাওয়া আমাদের জন্য বড় পাওয়া।”
৩৯ বছর বয়সে এসে পারফর্ম করাটা সহজ নয়। মাহমুদউল্লাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটেও খুব বেশি ম্যাচ খেলেন না। গত এপ্রিল থেকে বিপিএলের আগ পর্যন্ত আট মাসে খেলেছেন মাত্র দুটি ম্যাচ। তবু মাঠে নামলেই প্রভাব রাখছেন।
আশরাফুলের মতে, অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের জন্য অতিরিক্ত ম্যাচ খেলা জরুরি নয়। প্রস্তুতিটাই আসল। “মাহমুদউল্লাহ আমাদের কিংবদন্তি। এমন ব্যাটসম্যানদের বেশি ব্যাটিং দরকার হয় না। এখন ও ফিটনেসে অনেক কাজ করছে, জিম করছে, মানসিক প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে। যে টুর্নামেন্ট খেলবে, সেটার জন্য নিজেকে ঠিকঠাক প্রস্তুত করে।”
বিপিএলের এই পর্যায়ে এসে মাহমুদউল্লাহ যেন আবারও প্রমাণ করছেন, অভিজ্ঞতা আর সঠিক প্রস্তুতির সমন্বয় থাকলে বয়স কেবল একটি সংখ্যা।
ক্রিফোস্পোর্টস/৬জানুয়ারি২৬/টিএ
