Connect with us
ফুটবল

স্পোর্টস বাইবেলের প্রতিবেদন

২০২৬ বিশ্বকাপের ‘ফ্লপ একাদশে’ কিমিখ-রোনালদো-নেইমার

২০২৬ বিশ্বকাপের ফ্লপ একাদশে রোনালদো-নেইমারের নাম। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ মানেই ফুটবল তারকাদের নিজেদের সেরাটা মেলে ধরার মঞ্চ। কিন্তু প্রত্যেক আসরেই এমন কিছু খেলোয়াড় থাকেন, যাদের ঘিরে আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায় না। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম স্পোর্টস বাইবেল তাদের মূল্যায়নে প্রকাশ করেছে এবারের আসরের সবচেয়ে হতাশাজনক বা ‘ফ্লপ একাদশ’। এতে জায়গা পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার জুনিয়র, ম্যানুয়েল নয়্যার, জোশুয়া কিমিখ, ব্রুনো ফার্নান্দেস, ফেদেরিকো ভালভার্দেদের মতো বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত সব নাম।

গোলরক্ষকের জায়গায় রাখা হয়েছে জার্মান কিংবদন্তি ম্যানুয়েল নয়্যারকে। রক্ষণভাগে আছেন জোশুয়া কিমিখ, কালিদু কুলিবালি, ইয়োশকো গভার্দিওল ও থিও হার্নান্দেজ। মাঝমাঠে জায়গা পেয়েছেন ভিটিনহা, ফেদেরিকো ভালভার্দে ও ব্রুনো ফার্নান্দেস। আর আক্রমণভাগে রাখা হয়েছে নেইমার জুনিয়র, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জেরেমি ডোকুকে। ক্লাব ফুটবলে কিংবা জাতীয় দলের হয়ে অতীতে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে এই ফুটবলারদের কাছ থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই প্রত্যাশার সঙ্গে তাদের পারফরম্যান্সের মিল পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়রের নাম। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা রোনালদোর কাছ থেকে পর্তুগাল বড় কিছু আশা করেছিল। তবে পুরো টুর্নামেন্টে তিনি প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি। গোল করার সুযোগ পেলেও ধারাবাহিকভাবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স দেখা যায়নি তার কাছ থেকে। একইভাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি।



অন্যদিকে নেইমার এবং ব্রাজিলের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপটি ছিল একরকম ভুলে যাওয়ার মতো। ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টজুড়ে নিয়মিত খেলতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে কোচ কার্লো আনচেলোত্তি দ্বিতীয়ার্ধে তাকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান। তবে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড ম্যাচে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করলেও সেটি ব্রাজিলকে বিদায় এড়াতে সাহায্য করেনি।

পুরো বিশ্বকাপে নেইমারের খেলার সময় ছিল মাত্র ৩৭ মিনিট। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ১৩ মিনিট এবং নরওয়ের বিপক্ষে ২৪ মিনিট। একটি গোল করলেও প্রত্যাশিত নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা কিংবা ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে না পারায় তাকে রাখা হয়েছে এই ফ্লপ একাদশে।

জার্মানির হতাশাজনক বিশ্বকাপ অভিযানের প্রভাব পড়েছে একাদশেও। দলটির দুই অভিজ্ঞ ফুটবলার ম্যানুয়েল নয়্যার ও জোশুয়া কিমিখ জায়গা পেয়েছেন এই তালিকায়। একইভাবে সেনেগালের কালিদু কুলিবালি, ক্রোয়েশিয়ার ইয়োশকো গভার্দিওল, ফ্রান্সের থিও হার্নান্দেজ এবং বেলজিয়ামের জেরেমি ডোকুও নিজেদের সামর্থ্যের তুলনায় অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন বলে মত স্পোর্টস বাইবেলের।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি কোনো ফিফার আনুষ্ঠানিক একাদশ নয়। স্পোর্টস বাইবেলের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই ‘ফ্লপ একাদশ’। অর্থাৎ, এখানে জায়গা পাওয়া ফুটবলাররা খারাপ খেলোয়াড় নন; বরং তাদের সামর্থ্য, অতীতের অর্জন এবং টুর্নামেন্ট-পূর্ব প্রত্যাশার তুলনায় এবারের বিশ্বকাপে তারা হতাশ করেছেন বলেই এই তালিকায় রাখা হয়েছে।

স্পোর্টস বাইবেলের এই একাদশ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে রোনালদো, নেইমার, নয়্যার ও কিমিখের মতো কিংবদন্তিদের নাম তালিকায় থাকায় ফুটবলভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। কারও মতে নির্বাচনটি যৌক্তিক, আবার অনেকের মতে কয়েকজন ফুটবলারের ইনজুরি ও সীমিত সময় খেলাকে বিবেচনায় নিলে তাদের এই তালিকায় রাখা ঠিক হয়নি। তবুও একটি বিষয় পরিষ্কার ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত একাদশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে এই ‘ফ্লপ একাদশ’।

ক্রিফোস্পোর্টস/১৩জুলাই২৬/টিএ

Crifosports announcement

Focus

More in ফুটবল