বিপিএলের চলমান আসরে বিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের (আকু) ভূমিকা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেন ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটার সাইফ হাসান। হোটেল রুমে হঠাৎ করে আকু কর্মকর্তাদের উপস্থিতিকে তিনি ‘অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সিলেটে বিপিএল চলাকালে আকুর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ তোলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিক ফাহাদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সাইফ হাসান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাইফ।
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে বিপিএল শেষ করে ঢাকা ক্যাপিটালস। ওই ম্যাচে ৭৩ রানের ইনিংস খেলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাইফ। পুরো আসরে আকুর কার্যক্রম নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সাইফ জানান, শুরুতে ব্যাট হাতে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না আসায় সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছিল তাকে। তার মতে, প্রথম দুই-তিন ম্যাচে রান না পাওয়ায় কর্মকর্তারা মনে করেছেন তার পারফরম্যান্স আগের বছরের সঙ্গে মিলছে না। এরপরই কোনো পূর্ববার্তা ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়, যা তাকে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
ড্রেসিংরুম ও হোটেল রুমে হঠাৎ করে আকু কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তাকে বিস্মিত করেছে বলেও জানান সাইফ। তিনি বলেন, বিশ্রামের সময় বা প্রস্তুতির মুহূর্তে এভাবে আসা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে গুরবাজ যখন ঘুমাচ্ছিলেন, তখন রুমে ঢুকে পড়ার ঘটনাকে তিনি অপমানজনক হিসেবে দেখছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অনিয়মের প্রমাণ না পাওয়ায় আকু কর্মকর্তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান সাইফ। তার দাবি, একবার নয়, কয়েক দফায় এসে তারা ‘সরি’ বলেছেন।
পুরো ঘটনায় ঢাকা ক্যাপিটালসের ম্যানেজমেন্ট পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তিনি বলেছেন, ক্রিকেট তার কাছে পেশা নয়, প্যাশন। এমন অভিযোগ ও আচরণ তাকে ভীষণভাবে বিরক্ত করলেও দলের সমর্থনই তাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে।
বিপিএলে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিসিবি ও আকুর কড়াকড়ি নতুন কিছু নয়। তবে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসর ও সম্মানের প্রশ্নে এই বিতর্ক নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৯জানুয়ারি২৬/টিএ
